লোহিত সাগর আর হরমুজ প্রণালীর যুদ্ধ পরিস্থিতি এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল ভারতের লোকসভায়। একদিকে দেশজুড়ে এলপিজি (LPG) সংকটের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের হাহাকার, আর অন্যদিকে সংসদে সেই জোগান নিয়ে সরকার ও বিরোধী শিবিরের নজিরবিহীন বাগযুদ্ধ। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী যখন জ্বালানি নিয়ে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেন, ঠিক তখনই পালটা সুর চড়ালেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
‘ঘাটতি নেই এক ফোঁটা তেলেরও’: দাবি হরদীপ পুরীর দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তাকে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়েছেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী। সংসদে তিনি স্পষ্ট জানান:
-
দেশে পেট্রোল, ডিজেল বা কেরোসিনের কোনো অভাব নেই।
-
সারা ভারতে জ্বালানি সরবরাহের ‘সাপ্লাই চেইন’ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
-
বিকল্প পথ: ভারত আগে মোট তেলের ৪৫ শতাংশ আমদানি করত হরমুজ প্রণালী দিয়ে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক তৎপরতায় সেই নির্ভরতা কমিয়ে আমদানির বিকল্প পথ তৈরি করা হয়েছে।
রাহুলের নিশানায় ‘আমেরিকা নির্ভরতা’ মন্ত্রীর বক্তব্যের পরই ময়দানে নামেন রাহুল গান্ধী। ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “আমরা কার থেকে তেল কিনব বা রাশিয়া থেকে গ্যাস নেব কি না— সেটা কি এখন থেকে আমেরিকা ঠিক করে দেবে? আমাদের জ্বালানি অধিকার কেন আমেরিকার কাছে পণ রাখা হচ্ছে?” রাহুল অভিযোগ করেন, ভারত নিজের ‘আত্মনির্ভরতা’ হারিয়ে বিদেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
‘এপস্টিন ফাইল’ বনাম ‘তেলমন্ত্রী’: তুঙ্গে ব্যক্তিগত আক্রমণ তর্ক কেবল তেলের জোগানে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা গড়িয়েছে ব্যক্তিগত স্তরেও। রাহুল গান্ধী সরাসরি হরদীপ সিং পুরীর নাম নিয়ে অভিযোগ করেন যে, ‘এপস্টিন ফাইলে’ নাম আসার কারণেই মন্ত্রী বিদেশের কাছে জ্বালানি স্বার্থে আপস করছেন। যদিও সরকার পক্ষ এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
পেছনে যখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের অস্থিরতা ভারতকে দুশ্চিন্তায় রেখেছে। তবে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইতিমধ্যেই ইরানের সঙ্গে তিন দফা কথা বলেছেন বলে সূত্রের খবর। এই পরিস্থিতিতে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর ‘সব ঠিক আছে’ দাবি এবং বিরোধীদের ‘অধিকার খর্ব’ হওয়ার পাল্টা তোপ— দুইয়ের মাঝে পড়ে এখন সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই, রান্নার গ্যাসের জোগান ও দাম কি মধ্যবিত্তের নাগালে থাকবে?