মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের মেঘ। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে ভারতের সাধারণ মানুষের উদ্বেগ কাটাতে ময়দানে নামল কেন্দ্র। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিল— দেশে তেল বা গ্যাসের কোনো ঘাটতি নেই, ভয়েরও কোনো কারণ নেই।
তেল-গ্যাসের জোগান: কতটা নিরাপদ ভারত? পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, ভারত প্রতিদিন প্রায় ৫৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করে এবং বর্তমানে সেই সরবরাহ সম্পূর্ণ নিরাপদ। শুধু তাই নয়, এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের জোগানও স্বাভাবিক।
-
শহরাঞ্চল: ২৫ দিনের মধ্যে গ্যাস সিলিন্ডার পাবেন গ্রাহকরা।
-
গ্রামীণ এলাকা: ৪৫ দিনের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে সরবরাহ।
-
পেট্রোল পাম্প: দেশের ১ লক্ষ পেট্রোল পাম্পের কোথাও তেলের অভাব নেই।
বাংলার জন্য বিশেষ বরাদ্দ: ফিরছে কেরোসিন দিন? রান্নার গ্যাসের দাম ও জোগান নিয়ে যখন মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ, ঠিক তখনই বড় পদক্ষেপ নিল সরকার। এলপিজি-র বিকল্প হিসেবে রাজ্যগুলোকে অতিরিক্ত ৪০,০০০ কিলোলিটার কেরোসিন বরাদ্দ করা হয়েছে। যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ পাচ্ছে ৪,১৬৪ কিলোলিটার তেল। রেশনের মাধ্যমে এই কেরোসিন সরবরাহ করা হলে সাধারণ মানুষ স্টোভ জ্বালিয়ে রান্নার কাজ চালিয়ে নিতে পারবেন। ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন’-এর পক্ষ থেকেও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
বিদেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের জন্য বড় পদক্ষেপ যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় বিদেশ মন্ত্রক। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন:
-
সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে ভারতে আসার বিমানের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
-
ইরানে প্রায় ৯,০০০ ভারতীয়কে বিশেষ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
-
একটি সার্বক্ষণিক (২৪ ঘণ্টা) কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
গুজব ছড়ালে কড়া ব্যবস্থা! সোশ্যাল মিডিয়ায় এলপিজি সংকট নিয়ে ছড়ানো ভুয়ো খবর রুখতে কড়া নির্দেশ দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। টিভি চ্যানেলগুলোকে পুরনো বা বিভ্রান্তিকর ভিডিও না দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে, তাই অযথা আতঙ্কিত হয়ে ‘প্যানিক বায়িং’ বা অতিরিক্ত মজুত করার প্রয়োজন নেই।