সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের অপরিহার্য অঙ্গ দুধ। কিন্তু সেই দুধেই দিনের পর দিন মেশানো হচ্ছে ইউরিয়া, ডিটারজেন্ট থেকে শুরু করে মারাত্মক সব রাসায়নিক। এবার এই ভেজাল কারবারের কোমর ভাঙতে নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল দেশের খাদ্য সুরক্ষা ও মান নির্ধারক সংস্থা (FSSAI)। বৃহস্পতিবার দুধ উৎপাদক এবং বিক্রেতাদের জন্য একগুচ্ছ নতুন ও কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, গুণমানের সামান্যতম হেরফের বা ভেজালের প্রমাণ মিললে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
FSSAI-এর নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, এখন থেকে দুগ্ধ খামারিদের গবাদি পশুর খাদ্যের মান নিয়ে নিয়মিত শংসাপত্র জমা দিতে হবে। এছাড়া, দুধ সংগ্রহ কেন্দ্রগুলিতে উন্নতমানের টেস্টিং কিট রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ল্যাকটোমিটারের রিডিং থেকে শুরু করে দুধের ফ্যাট কন্টেন্ট— প্রতিটি তথ্য ডিজিটাল রেকর্ডে সংরক্ষণ করতে হবে যাতে যে কোনও সময় সরকারি পরিদর্শকরা তা খতিয়ে দেখতে পারেন। মূলত অসাধু ব্যবসায়ীরা লাভের আশায় দুধে যে স্টার্চ বা রাসায়নিক মেশান, তা আটকানোর জন্যই এই ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ বা অতর্কিত হানা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্দেশিকা কার্যকর হলে দুগ্ধজাত পণ্যের গুণগত মান কয়েক গুণ বাড়বে। বড় ডেইরি প্ল্যান্ট থেকে শুরু করে পাড়ার দুধ বিক্রেতা— সকলের জন্যই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। বিশেষ করে খোলা দুধ বিক্রির ক্ষেত্রে কড়া স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে বিক্রেতাদের। যারা নিয়ম অমান্য করবে, তাদের জন্য মোটা অঙ্কের জরিমানা এবং দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ডের সংস্থান রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের সাথে যারা খেলছে, তাদের বিরুদ্ধে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে এগোতে চাইছে কেন্দ্র।