ইসিআই-তে বড় ধাক্কা? মোদী মনোনীত কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে শক্তিপ্রদর্শন তৃণমূলের!

২০২৬-এর নির্বাচনী রণদামামা বাজার আগেই নির্বাচন কমিশনের (ECI) সঙ্গে সংঘাতের পথ আরও চওড়া করল তৃণমূল কংগ্রেস। জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানোর দাবিতে এবার দিল্লিতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল ঘাসফুল শিবির। সংসদীয় প্রোটোকল মেনে কোনো নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অনাস্থা বা অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করতে যে সংখ্যক সাংসদের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়, তৃণমূল তার চেয়েও বেশি সংখ্যক সই সংগ্রহ করে রীতিমতো চমক দিয়েছে রাজনৈতিক মহলকে।

তৃণমূলের অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্ত পক্ষপাতদুষ্ট। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক রদবদল এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন নিয়ে কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশিকাকে ‘একপেশে’ বলে দাবি করছে শাসক দল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদদের একটি প্রতিনিধি দল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র অন্যান্য শরিকদের সঙ্গেও এই বিষয়ে আলোচনা সেরেছেন। সূত্রের খবর, শুধুমাত্র তৃণমূল নয়, আরও কয়েকটি প্রভাবশালী আঞ্চলিক দলের সাংসদরাও এই পিটিশনে সই করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা বা বিধানসভা ভোটের আগে ইসিআই-এর শীর্ষ স্তরের কোনো কর্তাকে সরানোর জন্য এই ধরণের সঙ্ঘবদ্ধ উদ্যোগ নজিরবিহীন। তৃণমূলের দাবি, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে নিরপেক্ষ কমিশন গঠন আবশ্যিক। সংগৃহীত এই গণস্বাক্ষর সম্বলিত আবেদনপত্র খুব শীঘ্রই রাষ্ট্রপতি ভবনে জমা দেওয়া হতে পারে। এই পদক্ষেপের ফলে জাতীয় রাজনীতিতে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধল। পাল্টা বিজেপি শিবিরের দাবি, হার নিশ্চিত জেনেই এখন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে তৃণমূল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy