বিহারের বৈশালী জেলার হাজিপুরের ছেলে অভিষেক কুমার সিং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে ১০২তম স্থান অর্জন করে এক নজির গড়েছেন। আইআইটি থেকে স্নাতক হওয়ার পর একটি স্টার্টআপে কাজ শুরু করলেও, সমাজের তৃণমূল স্তরে পরিবর্তনের নেশা তাঁকে টেনে আনে সিভিল সার্ভিসের কঠিন লড়াইয়ে।
অভিষেকের শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল পুরুলিয়ার রামকৃষ্ণ মিশনে। পরে বিহারের হাজিপুর থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করেন। প্রথমবার সিভিল সার্ভিসে ব্যর্থ হলেও দমে যাননি তিনি। বহুজাতিক সংস্থায় চাকরির ইস্তফা দিয়ে বেঙ্গালুরু ও পরবর্তীতে হাজিপুরে ফিরে এসে শুরু করেন কঠোর প্রস্তুতি। তিনি জানিয়েছেন, অনলাইন কোচিং ও স্ব-অধ্যয়নই ছিল তাঁর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তাঁর ঐচ্ছিক বিষয় ছিল প্রাণিবিদ্যা (জুলজি)।
অভিষেকের বাবা অভয় কুমার সিং নালন্দা ওপেন ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ও মা সর্বদা ছেলের প্রতিটি পদক্ষেপে পাশে থেকেছেন। পরিবারের উত্তরাধিকারসূত্রে জনসেবার মানসিকতা তিনি পেয়েছেন তাঁর দাদু গয়া সিংয়ের কাছ থেকে, যিনি দীর্ঘ ২৫ বছর পঞ্চায়েত প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। অভিষেক বলেন, স্টার্টআপে কাজের সুবাদে তিনি বুঝেছিলেন প্রযুক্তি বা উদ্ভাবন অনেক সময় প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছায় না, যা সিভিল সার্ভিসে সরাসরি কাজ করার মাধ্যমে সম্ভব। তাঁর এই অনন্য সাফল্যে উচ্ছ্বসিত গোটা বৈশালী জেলা; জেলাশাসকও তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে সম্মান জানিয়েছেন।