নির্বাচন কমিশন এখনও দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি, কিন্তু তার আগেই রাজনৈতিক উত্তাপে ফুটছে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভা কেন্দ্র। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে প্রার্থী পদ নিয়ে যে পরিমাণ টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তাতে এলাকা এখন আক্ষরিক অর্থেই ‘রংবাহারি’। বর্তমান বিধায়ক তথা রাজ্যের ক্ষুদ্র, মাঝারি উদ্যোগ ও বস্ত্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী তজমুল হোসেন কি এবারও দলের টিকিট পাবেন? এই প্রশ্নই এখন হরিশ্চন্দ্রপুরের চায়ের আড্ডার প্রধান আলোচ্য বিষয়।
তজমুল হোসেনের রাজনৈতিক জীবন যথেষ্ট বৈচিত্র্যময়। ২০০৬ এবং ২০১১ সালে তিনি ফরওয়ার্ড ব্লকের হয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর ২০১৬ সালে তৃণমূলের টিকিটে লড়লেও কংগ্রেস প্রার্থীর কাছে হেরে যান। তবে ২০২১ সালের নির্বাচনে তিনি রেকর্ড ভোটে জয়ী হয়ে বিধানসভায় ফেরেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় স্থান পান। মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর থেকে এলাকায় তাঁর প্রভাব বাড়লেও দলেরই একটি অংশের মধ্যে তাঁকে ঘিরে চোরা ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এলাকার কিছু সরকারি কাজ এবং পুলিশি সৌজন্য ঘিরে বিতর্কেও জড়িয়েছেন তিনি, যা বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে।
অন্যদিকে, তৃণমূলের অন্দরে এক ঝাঁক নতুন মুখও এবার টিকিট পাওয়ার আশায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। স্থানীয় স্তরে গুঞ্জন, দল যদি কোনো কারণে ‘অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি’ বা মানুষের ক্ষোভ আঁচ করতে পারে, তবে প্রার্থী বদলের পথেও হাঁটতে পারে। তবে তজমুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন হওয়া তাঁর পাল্লা ভারী রাখছে। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে, কিন্তু তৃণমূলের প্রার্থী নিয়ে এই চূড়ান্ত গোপনীয়তা ও জল্পনা রাজনৈতিক মহলকে বিভ্রান্ত করে রেখেছে। শেষ পর্যন্ত তজমুল হোসেনই বাজিমাত করবেন নাকি নতুন কোনো মুখ দেখা যাবে, তার উত্তর মিলবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হলেই।