দীর্ঘ কয়েক বছরের যন্ত্রণাময় লড়াইয়ের পর অবশেষে অবসানের পথে হরিশ রানার জীবন। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট হরিশ রানার জন্য ‘প্যাসিভ ইউথ্যানেশিয়া’ (Passive Euthanasia) বা পরোক্ষ ইচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু এই স্বেচ্ছামৃত্যুর প্রক্রিয়াটি ঠিক কীভাবে সম্পন্ন হবে? হরিশের বাবার বয়ানে উঠে আসা সেই যন্ত্রণাদায়ক প্রক্রিয়ার বর্ণনা শুনে শিউরে উঠছেন অনেকেই।
কীভাবে হবে এই প্রক্রিয়া? আবেগপ্রবণ বাবা পূজা বসুর প্রতিবেদন অনুযায়ী জানিয়েছেন যে, পুরো প্রক্রিয়াটি হবে দিল্লির এইমস (AIIMS)-এর অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে। তিনি জানান, প্রথমে হরিশের শরীর থেকে ‘ফুড পাইপ’ বা খাদ্যনালী সরিয়ে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, বাইরে থেকে কৃত্রিমভাবে খাবার সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এরপর ধীরে ধীরে তাঁর শরীরে জল সরবরাহও বন্ধ করা হবে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণেই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করবেন। একেই চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘উইথড্রয়িং অফ লাইফ সাপোর্ট’ বলা হয়।
যন্ত্রণার অবসান: হরিশ রানা দীর্ঘদিন ধরে ‘পারসিস্টেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেট’-এ রয়েছেন, যেখানে শরীরের কোনো চেতনা নেই কিন্তু কৃত্রিমভাবে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সচল রাখা হয়েছে। তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এই আবেদন জানিয়ে আসছিল কারণ হরিশের সেরে ওঠার কোনো সম্ভাবনা ছিল না এবং তাঁর বেঁচে থাকাটা ছিল অসহ্য যন্ত্রণার। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে এখন তাঁর পরিবার তাঁকে একটি সম্মানজনক বিদায় দেওয়ার সুযোগ পেল। যদিও বাবা-মায়ের কাছে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ছিল, তবুও ছেলের দীর্ঘস্থায়ী কষ্ট দূর করতেই এই চরম পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।