এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের অপমৃত্যু! যে হাতে মানুষের প্রাণ বাঁচানোর কথা ছিল, সেই হাতই বেছে নিল চরম পথ। দিনের পর দিন প্রেমিকের কাছ থেকে পাওয়া মানসিক লাঞ্ছনা ও কুৎসিত অপবাদ সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী হলেন এক মেধাবী ডাক্তারি ছাত্রী। অভিযোগের তির তার প্রেমিকের দিকে, যার বিষাক্ত শব্দবাণ তিলে তিলে শেষ করে দিয়েছে একটি প্রাণ। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে চিকিৎসক মহলে, শোকের ছায়া পরিবারে।
সূত্রের খবর, মৃত ছাত্রীটি কলকাতার এক নামী মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। দীর্ঘদিনের প্রণয়ঘটিত সম্পর্ক ছিল অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে। পরিবারের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরেই সম্পর্কের অবনতি ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, যুবকটি কথায় কথায় ওই ছাত্রীকে “এক নম্বরের দুশ্চরিত্র” বলে গালিগালাজ করত এবং তার চরিত্র নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করত। এমনকি জনসমক্ষে এবং সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাকে অপমান করার হুমকি দেওয়া হতো বলে অভিযোগ।
মেধাবী ওই ছাত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তার ডায়েরি বা সুইসাইড নোট থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্যে উঠে এসেছে এক যন্ত্রণাদায়ক দীর্ঘশ্বাসের কথা। সেখানে লেখা ছিল, কীভাবে ভালোবাসার মানুষটির কাছ থেকে পাওয়া একেকটি অপবাদ তার বাঁচার ইচ্ছা কেড়ে নিচ্ছিল। পরিবারের দাবি, “মেয়েটা দিনের পর দিন এই অপমান মুখ বুজে সহ্য করেছে, কিন্তু শেষরক্ষা হলো না।”
পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত প্রেমিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। তার মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে চ্যাট ও কল রেকর্ড খতিয়ে দেখার জন্য। এটি কি কেবলই আত্মহত্যা নাকি আত্মহত্যার প্ররোচনা, তা খতিয়ে দেখছে লালবাজার। মানসিক অবসাদ ও সম্পর্কের টানাপোড়েন যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এই ঘটনা আবারও তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।