কলকাতার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন বই-খাতার বদলে বুটের শব্দ। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ ভবনগুলোতে ঘাঁটি গেড়েছে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী। এর ফলে স্বাভাবিক পঠনপাঠন কার্যত লাটে উঠেছে। এই চরম অব্যবস্থার প্রতিবাদে এবং বর্তমান সেমিস্টার পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে বুধবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল তিলোত্তমা। শহরের রাজপথে নেমে বিক্ষোভে শামিল হলেন কয়েক হাজার পড়ুয়া।
বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ পঠনপাঠন বন্ধ থাকায় সিলেবাস শেষ হয়নি। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ল্যাবরেটরি বা লাইব্রেরি ব্যবহারের সুযোগ মিলছে না কারণ সেখানে জওয়ানরা রয়েছেন। এই অবস্থায় পরীক্ষা নেওয়া অসম্ভব বলে দাবি তুলেছেন ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের সাফ কথা, “পড়াশোনা না হলে পরীক্ষা দেব কিসে? অবিলম্বে এই সেমিস্টার বাতিল করতে হবে অথবা বিশেষ ছাড় দিতে হবে।” মিছিল যখন কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলার দিকে এগোচ্ছিল, তখন পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা।
শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনের জন্য স্কুল-কলেজ দখল করার চিরাচরিত পদ্ধতি এবার পড়ুয়াদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিয়েছে। একদিকে সেশন জট, অন্যদিকে ক্যাম্পাসে সেনার উপস্থিতি— দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জের হুমকি দিলেও পিছু হঠতে নারাজ ছাত্র সমাজ। বিকেলের পর থেকে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় যানজটে নাকাল হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। রাজ্য সরকার বা শিক্ষা দফতর এই নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সমাধান সূত্র বের করতে পারেনি।