লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগেই বড়সড় বোমা ফাটালেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার ৯ মার্চ ২০২৬, এক জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন যে, দিল্লির এক প্রভাবশালী আমলা তাঁকে ফোন করেছিলেন এবং পরোক্ষে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। অভিষেকের এই অভিযোগ ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিজেপি কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করার পাশাপাশি এখন আমলাতন্ত্রকেও রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে তাঁর দাবি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ফোন কলের মাধ্যমে তাঁকে নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, “দিল্লি থেকে একজন আমলা ফোন করেছিলেন। তিনি কী বলেছেন তা সময় এলে প্রমাণ সহ সামনে আনব। ভাবছে ধমক দিয়ে বা চমক দিয়ে তৃণমূলকে থামিয়ে দেবে? বাংলার মানুষ এই অন্যায়ের জবাব দেবে।” অভিষেক আরও যোগ করেন যে, বিজেপি যখন দেখছে জনসমর্থন তাদের দিক থেকে সরে যাচ্ছে, তখনই তারা আমলা ও এজেন্সি দিয়ে বিরোধী নেতাদের কণ্ঠরোধ করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
তৃণমূলের দাবি, এই ফোন কল আসলে এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। নির্বাচনের আগে বাংলার অফিসারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং শাসক দলের মনোবল ভেঙে দেওয়ার যে নীল নকশা দিল্লি তৈরি করেছে, অভিষেক তা প্রকাশ্যে এনে দিলেন। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং ‘সস্তার রাজনীতি’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, তদন্তের হাত থেকে বাঁচতেই অভিষেক নতুন নতুন গল্প ফাঁদছেন। এই আমলা-যোগ এবং ফোন কল বিতর্ক আগামী কয়েক দিন বাংলার নির্বাচনী লড়াইকে যে আরও তিক্ত করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।