ভারতীয় রেলের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ট্রেন হলো ১৩০১৯/১৩০২০ হাওড়া-কাঠগুদাম এক্সপ্রেস, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘বাঘ এক্সপ্রেস’ নামেই পরিচিত। নাম শুনে অনেকে মনে করেন হয়তো জিম করবেট ন্যাশনাল পার্ক বা বাঘের ডেরার ওপর দিয়ে যায় বলেই এই নামকরণ। কিন্তু রেলের নথি বলছে অন্য কথা। এই ট্রেনের নামের সাথে বনের বাঘের (Tiger) কোনো সম্পর্ক নেই, বরং এর যোগসূত্র রয়েছে পাঞ্জাব ও স্বাধীনতা সংগ্রামের বীরত্বের সাথে।
আসলে, এই ট্রেনের নামকরণের ইতিহাস খুঁজতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হবে ১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালা বাগ হত্যাকাণ্ডের মর্মান্তিক স্মৃতিতে। ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতে এই ট্রেনটি যখন শুরু হয়, তখন এটি অমৃতসর পর্যন্ত চলত। অমৃতসরের সেই ঐতিহাসিক ‘জালিয়ানওয়ালা বাগ’-এর শহীদদের সম্মান জানাতেই ট্রেনটির নাম রাখা হয়েছিল ‘বাগ এক্সপ্রেস’ (Bagh Express)। হিন্দিতে ‘বাগ’ শব্দের অর্থ বাগান। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে এই পবিত্র স্থানের আত্মত্যাগকে চিরস্মরণীয় করে রাখাই ছিল এর আসল উদ্দেশ্য।
সময়ের সাথে সাথে ট্রেনের রুট পরিবর্তিত হয়েছে। এখন এটি হাওড়া থেকে কাঠগুদাম পর্যন্ত চলে, কিন্তু নামের ঐতিহ্য থেকে গিয়েছে আগের মতোই। ভাষাগত বিবর্তনে অনেকে একে ‘বাঘ’ বলে ভুল করেন, কিন্তু রেলের ইতিহাসে এটি দেশপ্রেমের এক জলন্ত প্রতীক। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের রক্তে রঞ্জিত সেই মাটির স্মৃতি আজও বহন করে চলেছে এই ট্রেনটি। সুতরাং, পরের বার বাঘ এক্সপ্রেসে চড়ার সময় মনে রাখবেন, আপনি কেবল একটি ট্রেনে ভ্রমণ করছেন না, বরং ভারতের বীর শহীদদের স্মৃতির সরণি বেয়ে এগিয়ে চলেছেন।