৭ দশক পর বড় সাফল্য! ‘প্রজেক্ট চিতা’র হাফ সেঞ্চুরি, মোদী সরকারের মুকুটে নয়া পালক

ক্রিকেট মাঠে হাফ সেঞ্চুরি দেখলে আমরা উল্লাসে ফেটে পড়ি, কিন্তু এবারের হাফ সেঞ্চুরিটি ভারতের পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের জন্য আরও বেশি গর্বের। দীর্ঘ সাত দশক আগে ভারত থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল চিতা। কিন্তু সোমবার ৯ মার্চ ২০২৬, সেই অধ্যায়ে এক সোনালি মোড় এল। মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানে নামিবীয় চিতা ‘জ্বালা’ ৫টি শাবকের জন্ম দেওয়ায় ভারতে এখন চিতার মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩। অর্থাৎ, ভারত সাফল্যের সাথে চিতার সংখ্যার হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করল।

কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খুশির খবর ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই নতুন ৫ জন সদস্যকে নিয়ে ভারতে জন্মানো চিতার সংখ্যা এখন ৩৩-এ পৌঁছেছে। এটি ভারতের ‘প্রজেক্ট চিতা’র দশম সফল প্রসব। ১৯৫২ সালে ভারতকে চিতা-শূন্য দেশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই আক্ষেপ মিটিয়ে ২০২২ সালে ঘটা করে বিদেশ থেকে চিতা আনা শুরু হয়। নানা বাধা, কিছু চিতার মৃত্যু এবং সমালোচনা সত্ত্বেও ভারতের বিজ্ঞানীরা হাল ছাড়েননি। আজকের এই সংখ্যা প্রমাণ করছে যে, ভারতের জলবায়ুর সাথে মানিয়ে নিচ্ছে এই শিকারি প্রাণীরা।

মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এই সাফল্যকে ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পরিবেশবিদদের মতে, চিতাদের এই বংশবৃদ্ধি ভারতের বনভূমির ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা নেবে। পর্যটন শিল্পেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। মাঠের চার-ছক্কার চেয়েও এই বন্যপ্রাণের লড়াইয়ে জেতা হাফ সেঞ্চুরি আজ ভারতের প্রতিটি প্রকৃতিপ্রেমীর কাছে বড় উৎসবের খবর।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy