পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের কালো মেঘ এবং ক্রমাগত বাড়তে থাকা সামরিক সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারত। সোমবার সংসদের অধিবেশনে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দেশের অবস্থান স্পষ্ট করেন। ইজরায়েল, ইরান এবং লেবাননের মধ্যে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের প্রভাব যে কেবল ওই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং বিশ্বজুড়ে তার আঁচ পৌঁছাচ্ছে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি। তবে এই চরম উত্তেজনার আবহেও বিদেশের মাটিতে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন বিদেশমন্ত্রী।
বিদেশমন্ত্রী জানান, ভারত সরকার পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির ওপর প্রতি মুহূর্তের নজর রাখছে। বিশেষ করে ইজরায়েল এবং ইরান—উভয় পক্ষের সঙ্গেই নয়াদিল্লির কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রয়েছে। সংসদে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের প্রথম এবং প্রধান অগ্রাধিকার হলো সেখানে কর্মরত এবং বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।” যুদ্ধের তীব্রতা বাড়লে প্রয়োজনে উদ্ধারকার্য বা ‘ইভাকুয়েশন’-এর জন্য সবরকম বিকল্প খোলা রাখা হয়েছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। সংশ্লিষ্ট ভারতীয় দূতাবাসগুলোকে ২৪ ঘণ্টা সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ভারত বরাবরই আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে। যুদ্ধের ফলে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে তেলের দামের অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তবে ভারতীয়দের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। সরকার প্রতিটি নাগরিকের গতিবিধির ওপর নজর রাখছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে থাকা ভারতীয়দের নিয়মিত দূতাবাসের নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দিল্লির এই কড়া নজরদারি ও আশ্বাস প্রবাসীদের পরিবারগুলোর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে।