বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বন্ধ্যাত্ব বা প্রজনন ক্ষমতা হ্রাসের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, জীবনযাত্রার কিছু ভুল অভ্যাস এর জন্য প্রধানত দায়ী। প্রজনন স্বাস্থ্য অটুট রাখতে তরুণ বয়সে কোন অভ্যাসগুলো এড়িয়ে চলা জরুরি, তা জেনে নিন:
প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া অভ্যাসগুলো:
অতিরিক্ত মদ্যপান ও ধূমপান: ধূমপান শুক্রাণুর গুণমান ও সংখ্যা কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে, অতিরিক্ত মদ্যপান হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রজনন স্বাস্থ্যের অপূরণীয় ক্ষতি করে।
ল্যাপটপ বা মোবাইলের ভুল ব্যবহার: দীর্ঘক্ষণ ল্যাপটপ সরাসরি কোলের ওপর রেখে কাজ করলে বা প্যান্টের পকেটে মোবাইল রাখালে তা অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। শুক্রাণু তৈরির জন্য নির্দিষ্ট তাপমাত্রার প্রয়োজন, অতিরিক্ত উত্তাপ শুক্রাণুর উৎপাদন কমিয়ে দেয়।
অপর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ: মানসিক চাপ (Stress) শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা সরাসরি প্রজনন হরমোনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম না হলে শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যেতে পারে।
ভুল খাদ্যাভ্যাস: মাত্রাতিরিক্ত ফাস্ট ফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় স্থূলতার কারণ হয়। স্থূলতা বা মেদ শুক্রাণুর সক্রিয়তা ও মান কমিয়ে দেয়।
টাইট অন্তর্বাস বা পোশাক: প্রতিনিয়ত খুব টাইট অন্তর্বাস পরলে অণ্ডকোষের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। এতে শুক্রাণু উৎপাদন ব্যাহত হয়।
সতর্কতা ও পরামর্শ:
১. প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল পান করুন এবং প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি ও ফলমূল খান।
২. নিয়মিত শরীরচর্চা করুন, কিন্তু অতিরিক্ত ভারী ব্যায়ামের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৩. দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে যোগব্যায়াম বা মেডিটেশন করুন।
সময় থাকতেই জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে ভবিষ্যতের অনেক বড় ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।