দিনে কয়েকবার টয়লেটে যাওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু সেই সংখ্যাটি যদি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়, তবে তা শরীরের কোনো অন্তর্নিহিত সমস্যার সংকেত হতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন, এই সমস্যাকে তুচ্ছ জ্ঞান করা মোটেই উচিত নয়।
ঘনঘন প্রস্রাবের কারণ ও রোগ:
ডায়াবেটিস (Diabetes): ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া ডায়াবেটিসের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণগুলোর একটি। রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে শরীর অতিরিক্ত চিনি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে।
ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI): যদি প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা অনুভূত হয়, তবে এটি মূত্রনালীর সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে।
প্রস্টেট গ্রন্থির সমস্যা: পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে গেলে (BPH) প্রস্রাবের থলির ওপর চাপ পড়ে, ফলে বারবার টয়লেটের প্রয়োজন হয়।
ওভারঅ্যাক্টিভ ব্লাডার (OAB): অনেক সময় মূত্রথলি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে, যার ফলে খুব সামান্য পরিমাণ প্রস্রাব জমলেও প্রচণ্ড বেগ আসে।
কিডনি বা মূত্রথলির পাথর: কিডনিতে পাথর থাকলে বা মূত্রথলিতে কোনো সমস্যা থাকলে প্রস্রাবের গতিপ্রকৃতি বদলে যেতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি প্রস্রাবের সাথে রক্ত দেখা যায়।
যদি প্রস্রাব করতে খুব কষ্ট বা ব্যথা হয়।
যদি রাতের ঘুম নষ্ট করে বারবার উঠতে হয় (Nocturia)।
যদি হঠাৎ করে ওজন কমতে শুরু করে।
সতর্কতা:
অকারণে জল খাওয়া কমানো এই সমস্যার সমাধান নয়। বরং শরীর সুস্থ রাখতে এবং রোগ নির্ণয় করতে দ্রুত কোনো ইউরোলজিস্ট বা জেনারেল ফিজিশিয়ানের পরামর্শ নিন। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসা সহজ হয়।