স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। সামরিক সরঞ্জামের জন্য পাকিস্তান এখন পুরোপুরি বেজিংয়ের মুখাপেক্ষী। ২০২১-২৫ সালের তথ্যানুযায়ী, পাকিস্তানের মোট অস্ত্র আমদানির ৮০ শতাংশই আসে চিন থেকে, যা পূর্বের তুলনায় অনেকটাই বেশি।
বিশ্বের অস্ত্র আমদানিকারক দেশগুলোর তালিকায় পাকিস্তান বর্তমানে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। ২০১৬-২০ সালের তুলনায় তাদের অস্ত্র আমদানি ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, চিনের মোট অস্ত্র রপ্তানির ৬১ শতাংশই যায় পাকিস্তানে, যা প্রতিবেশী দেশটির ওপর ইসলামাবাদের চরম নির্ভরশীলতাকে স্পষ্ট করে।
অন্যদিকে, ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক দেশ হলেও, দেশটি এখন ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে জোর দিচ্ছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে অস্ত্র উৎপাদন বাড়ায় ভারতের আমদানি ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে রাশিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে ভারত বর্তমানে ফ্রান্স, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের দিকে ঝুঁকছে। রুশ অস্ত্রের হিস্যা ২০১১-১৫ সালের ৭০ শতাংশ থেকে কমে এখন ৪০ শতাংশে নেমেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনের ক্রমবর্ধমান সামরিক আধিপত্য এবং এশীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগই এই অস্ত্র প্রতিযোগিতার মূল কারণ। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক অস্ত্র বাজারের সমীকরণ দ্রুত পাল্টাচ্ছে, যেখানে ইউরোপ এখন অস্ত্র আমদানির প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সীমান্ত উত্তজনা এবং ২০২৫ সালের সংঘাতের প্রেক্ষিতে ভারত ও পাকিস্তান—উভয় দেশই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে মরিয়া।