মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইজরায়েলের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝে এক নতুন রণকৌশল দেখেছে বিশ্ব। ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে কম খরচের ‘সুইসাইড ড্রোন’ বা কামিকাজে ড্রোন কীভাবে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, তা এখন সবার কাছে স্পষ্ট। ঠিক এই আদলেই এবার ভারতের ভাঁড়ারে আসছে নতুন ঘাতক— ‘শেষনাগ’ ড্রোন (Sheshnaag Drone)। ইরানের বিখ্যাত ‘শেহজাদ’ বা ‘শাহেদ’ ড্রোনের সফলতাকে মাথায় রেখেই ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা এই প্রযুক্তিতে শান দিয়েছেন।
‘শেষনাগ’ ড্রোনের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এর নির্ভুল লক্ষ্যভেদ এবং রাডারের চোখে ধুলো দেওয়ার ক্ষমতা। এটি আকারে ছোট হওয়ায় খুব সহজে শত্রুর আকাশসীমায় ঢুকে পড়তে পারে। ইরানের শাহেদ ড্রোন যেমন ইজরায়েলের আয়রন ডোমকেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল, ভারতের শেষনাগ ড্রোনের মধ্যেও সেই একই বিধ্বংসী ক্ষমতা রয়েছে। এর পাল্লা ও বহন ক্ষমতা আগের ড্রোনগুলির তুলনায় অনেকটাই বেশি, যা একে প্রকৃতপক্ষেই যুদ্ধের ময়দানে গেম-চেঞ্জার করে তুলেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর, ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্পের আওতায় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ড্রোনটি শীঘ্রই সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। লাদাখ বা অরুণাচল প্রদেশের মতো দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যেখানে বড় বড় ট্যাঙ্ক বা যুদ্ধবিমান পৌঁছানো কঠিন, সেখানে ‘শেষনাগ’ হবে ভারতের প্রধান ভরসা। ভারত যেভাবে ড্রোন প্রযুক্তিতে ইরানের মতো দেশকে টেক্কা দেওয়ার পথে হাঁটছে, তা বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে। এই ড্রোন কেবল আকাশেই নয়, শত্রুর মনেও ভয়ের উদ্রেক করবে বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।