আজ ৮ই মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। যখন সারা বিশ্ব নারী শক্তির জয়গান গাইছে, তখন কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে সামনে এল এক হাড়হিম করা লড়াইয়ের জয়গাথা। এক বিরল স্নায়ুরোগে আক্রান্ত হয়েও মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে সুস্থ সন্তানের জন্ম দিলেন এক তরুণী। চিকিৎসকদের ভাষায় যা ‘মিরাকল’ বা অলৌকিক ঘটনার চেয়ে কম কিছু নয়। আরজি করের চিকিৎসকদের তৎপরতা এবং ওই মায়ের অদম্য জেদ আজ নতুন এক মাইলফলক তৈরি করল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওই প্রসূতি এক অত্যন্ত জটিল ও বিরল স্নায়ুরোগে (Rare Neurological Disorder) আক্রান্ত ছিলেন। এই রোগে গর্ভাবস্থায় মা এবং সন্তান—উভয়েরই প্রাণহানির চরম ঝুঁকি থাকে। শরীরের পেশিগুলো এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে যে অস্ত্রোপচার তো দূর, স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়াও কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল যখন হাত তুলে দিয়েছিল, তখন আরজি করের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগ এবং অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগের চিকিৎসকরা এই কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন।
নারীবন্দনার এই বিশেষ দিনে চিকিৎসকরা এক দীর্ঘ ও জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওই মহিলার সফল প্রসব করান। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ রয়েছেন। হাসপাতালের এক বরিষ্ঠ চিকিৎসক জানান, “এটি কেবল একটি অস্ত্রোপচার ছিল না, এটি ছিল সময়ের বিরুদ্ধে এক লড়াই। নারী দিবসে একজন মাকে তাঁর সন্তানের মুখ দেখাতে পারা আমাদের কাছে সবথেকে বড় প্রাপ্তি।” এই সাফল্য আবারও প্রমাণ করল যে সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো ও চিকিৎসকদের মেধা যেকোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে টেক্কা দিতে পারে। এই খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসার জোয়ার বইছে। আরজি করের এই ‘উপহার’ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের তাৎপর্যকে আরও উজ্জ্বল করে তুলল।