২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। নির্বাচনের নির্ধারিত সময় এগিয়ে আসতেই রাজ্যে ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’ জারি হওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। সম্প্রতি এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে, বিজেপি চক্রান্ত করে রাজ্যে ৩৫৬ ধারা বা রাষ্ট্রপতি শাসন জারির চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তাঁর সরকার সেই চাল রুখে দিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) নিয়ে বিজেপি যে টালবাহানা করছিল, তার আসল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া। মমতা বলেন, “ওরা চেয়েছিল নির্বাচন না করিয়েই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে। কিন্তু আমরা সেই ষড়যন্ত্র সফল হতে দিইনি।” তাঁর মতে, নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন না হওয়া মানেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলা এবং দিল্লির শাসন চাপিয়ে দেওয়া।
অন্যদিকে, বিজেপি এই ইস্যু নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে। রাজ্য বিজেপির দাবি, বাংলায় বর্তমানে ‘আইনের শাসন’ নয়, বরং ‘শাসকের আইন’ চলছে। বারবার নির্বাচন পরবর্তী হিংসা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার উদাহরণ টেনে বিজেপি নেতারা বলছেন যে, রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নেই। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মতে, যদি নির্বাচন কমিশন মনে করে যে রাজ্যে স্বাভাবিকভাবে ভোট করা সম্ভব নয়, তবে সংবিধান অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবা হতেই পারে। তবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সরাসরি রাষ্ট্রপতি শাসনের কথা না বললেও, বাংলায় ‘সাংবিধানিক সংকট’ তৈরি হয়েছে বলে বারবার সরব হয়েছে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (৭ মে ২০২৬-এর আগে) বিধানসভা গঠন করা না যায়, তবে সাংবিধানিকভাবেই রাষ্ট্রপতি শাসনের পথ প্রশস্ত হতে পারে। তবে বর্তমানে নির্বাচন কমিশন যেভাবে দ্রুততার সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন ও প্রস্তুতি সারছে, তাতে ভোট পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।