লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা নিয়ে বড়সড় কৌশল বদল করল তৃণমূল কংগ্রেস। এতদিন লোকসভার অন্দরে স্পিকারের পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগে সরব থাকলেও, হঠাৎ করেই নিজেদের অবস্থান বদলেছে জোড়াফুল শিবির। সূত্রের খবর, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং নির্দেশের পরেই এই কৌশলী বদল। তৃণমূল এবার সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে সংসদীয় রীতিনীতি মেনে স্পিকারকে চাপে রাখার পরিকল্পনা করছে।
সংসদীয় রাজনীতিতে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা এক চরম পদক্ষেপ। ইন্ডিয়া জোটের অন্দরে এই নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চললেও তৃণমূলের এই অবস্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সূত্রে জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করছেন, এই মুহূর্তে সরাসরি অনাস্থা প্রস্তাব এনে সরকারকে বাড়তি মাইলেজ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সংসদের প্রতিটি ইস্যুতে স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে জনসমক্ষে নৈতিকভাবে চাপে রাখাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। এই রণকৌশল মেনেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন নেত্রী।
তৃণমূলের এই নতুন চালের পিছনে রয়েছে দূরদর্শিতা। বিরোধীদের দাবি, লোকসভায় বিরোধী কণ্ঠরোধ করার যে অভিযোগ স্পিকারের বিরুদ্ধে উঠছে, তা নিয়ে দেশজুড়ে প্রচার চালাবে তৃণমূল। সরাসরি অনাস্থা প্রস্তাব ভোটাভুটিতে হারার সম্ভাবনা থাকে, যা বিজেপির জয় হিসেবে দেখা হতে পারে। তাই পরাজয়ের ঝুঁকি না নিয়ে স্পিকারের চেয়ারের মর্যাদা এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরব হবে দল। ইন্ডিয়া জোটের বাকি শরিকদের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই এই পথে হাঁটছে বাংলা।