ইরান এবং ইজরায়েলের মধ্যে চলা এই ভয়াবহ যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতির ভিত নাড়িয়ে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং পারস্য উপসাগরের ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তবে তেলের দাম আয়ত্তের বাইরে চলে যাবে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, অপরিশোধিত তেলের প্রতি ব্যারেলের দাম ১৫০ থেকে ১৬০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে—যার ভারতীয় অর্থমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১৩,০০০ টাকা-র কাছাকাছি!
কেন এই মহাবিপর্যয়? বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। যুদ্ধের কারণে এই পথ রুদ্ধ হলে বাজারে তেলের আকাল দেখা দেবে। গোল্ডম্যান স্যাকস এবং জেপি মরগানের মতো সংস্থাও সতর্ক করেছে যে, সরবরাহ বন্ধ থাকলে তেলের দামে এমন ‘শক’ আসতে পারে যা বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতিকে আকাশচুম্বী করে তুলবে। এর ফলে পরিবহন খরচ বাড়বে এবং খাদ্যদ্রব্য থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।
ভারতের ওপর প্রভাব: ভারত তার প্রয়োজনের প্রায় ৮৫% তেল আমদানি করে। তেলের ব্যারেল ১৩,০০০ টাকায় পৌঁছালে ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১৫০-২০০ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এতে কেবল মধ্যবিত্তের পকেটেই টান পড়বে না, দেশের জিডিপি (GDP) বৃদ্ধিও থমকে যেতে পারে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের জন্য মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।
অর্থনীতির শেষ ঘণ্টা? অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দামের এই উল্লম্ফন বিশ্বজুড়ে মন্দা (Recession) ডেকে আনতে পারে। স্টক মার্কেট ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে এবং বিনিয়োগকারীরা সোনা বা ডলারের মতো নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ঝুঁকছেন। আগামী কয়েকটা দিন গোটা বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ না থামানো যায়, তবে বিশ্ব অর্থনীতি এক অন্ধকার গহ্বরে নিমজ্জিত হতে পারে।