আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ যেমন তুঙ্গে, তেমনই ব্যস্ত হয়ে উঠেছে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। নির্বাচনী প্রচারের ব্যস্ততায় চার্টার্ড বিমান ও হেলিকপ্টারের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বড়সড় প্রস্তুতি শুরু করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
সাধারণত প্রতিদিন ৫-৬টি হেলিকপ্টার ওঠানামা করলেও, বর্তমানে তা বেড়ে ১০-১২টিতে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনী প্রচার যত জোরদার হবে, এই সংখ্যা দিনে ২০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে অনুমান কর্তৃপক্ষের। অর্থাৎ, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি ‘নন-শিডিউলড’ ফ্লাইটের চাপ সামলাতে হচ্ছে বিমানবন্দরকে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে অমিত শাহ—দেশের তাবড় নেতাদের যাতায়াতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে কলকাতা। এই বাড়তি চাপ ও ভিভিআইপিদের দ্রুত যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে তৈরি হচ্ছে একটি ‘ডেডিকেটেড জোন’। পাশাপাশি, দ্রুত প্রস্থান ও প্রবেশের সুবিধার জন্য বসানো হচ্ছে বিশেষ ঘূর্ণায়মান দরজা বা ‘রিভলভিং ডোর’।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, ২০২১ সালের তুলনায় এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। কোভিড বিধিনিষেধ না থাকায় রাজনৈতিক নেতাদের হেলিকপ্টার নির্ভরতা রেকর্ড ছাড়াতে চলেছে। স্বাভাবিক যাত্রীবাহী বিমান পরিষেবা যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য সিআইএসএফ ও রাজ্য পুলিশের সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। ভিভিআইপিদের কনভয় ও নিরাপত্তা বলয় সামলাতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। নির্বাচনের এই মরশুমে আকাশপথের এই রণকৌশল রাজনৈতিক মহলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।