বাংলার রাজনীতিতে তিনি পরিচিত ‘হন্টনের হেডমাস্টার’ নামে। বয়সকে তুড়ি মেরে রাজপথের আন্দোলনে যাঁর উপস্থিতি ছিল অবধারিত, সেই বিমান বসুকেই এবার হার মানতে হলো প্রকৃতির নিয়মের কাছে। ভোটার তালিকায় কারচুপির প্রতিবাদে বুধবার রাতভর নির্বাচন কমিশনের (CEO) দফতরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল ছিলেন মহম্মদ সেলিম, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়রা। কিন্তু চিকিৎসকের কড়া পরামর্শে দীর্ঘ ৫৫ বছরের লড়াকু ইতিহাসে এই প্রথমবার রাতের অবস্থানে থাকতে পারলেন না বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি আক্ষেপ করেন, ‘এই প্রথম আমি থাকতে পারলাম না।’
ঘটনার সূত্রপাত ভোটার তালিকা থেকে পরিকল্পিতভাবে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। বামেদের দাবি, প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারকে ‘বিচারাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁদের ভোটাধিকার খর্ব করার চেষ্টা চলছে। এই ইস্যুতে বুধবার টি বোর্ড থেকে শুরু হওয়া বামেদের মিছিল সিইও দফতরের সামনে পৌঁছালে উত্তেজনা ছড়ায়। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল দেখা না করায় সেখানেই অবস্থানে বসেন বাম নেতা-কর্মীরা।
অবশেষে বৃহস্পতিবার বিমান বসুর নেতৃত্বে চার সদস্যের এক প্রতিনিধি দল কমিশনের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি জমা দেন। বিমান বসুর সাফ হুঁশিয়ারি, “এই ৬০ লক্ষ মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ না করে কোনোভাবেই ভোট হতে পারে না। একজন ভোটারের অধিকার কেড়ে নেওয়া হলেও আমরা তা মেনে নেব না।” শরীরের ক্লান্তি থাকলেও, মেজাজে যে তিনি এখনও সেই পুরনো ‘হেডমাস্টার’, তা বুঝিয়ে দিলেন বিমান।