বিহারের রাজনীতিতে আজ এক অগ্নগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে নীতীশ কুমারের আকস্মিক ইস্তফার খবর চাউর হতেই উত্তাল হয়ে উঠল গোটা পটনা। তবে এবারের আক্রমণ বাইরে থেকে নয়, খোদ নীতীশের নিজের দল জনতা দল ইউনাইটেড (JDU)-এর অন্দরেই শুরু হয়েছে নজিরবিহীন বিদ্রোহ। ক্ষুব্ধ দলীয় কর্মীরা পটনায় দলের প্রধান কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।
কেন এই ভয়ঙ্কর উন্মাদনা? সূত্রের খবর, নীতীশ কুমারের পদত্যাগের সিদ্ধান্তে দলের নীচুতলার কর্মীদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নীতীশকে বিহারের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে দেখে আসা কর্মীরা এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না। বৃহস্পতিবার বিকেলে ইস্তফার খবর নিশ্চিত হতেই কয়েকশো কর্মী দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। স্লোগান দেওয়ার মাঝেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উত্তেজিত জনতা অফিসের আসবাবপত্র, কাঁচের দরজা এবং নীতীশের পোস্টার ছিঁড়ে লণ্ডভণ্ড করে দেয়।
রণক্ষেত্র পটনা শুধুমাত্র দলীয় কার্যালয় নয়, পটনার রাজপথেও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সমর্থকরা। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর যে, পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কর্মীরা নিজেদের নেতার এমন ‘আত্মসমর্পণ’ বা রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোকে মেনে নিতে পারছেন না। দলের একাংশের মতে, উত্তরসূরি নির্বাচন এবং বিজেপির সঙ্গে নতুন সমীকরণ নিয়ে বিভ্রান্তিই এই জনরোষের মূল কারণ।
প্রশাসনের তৎপরতা বর্তমানে পটনা জুড়ে হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। নীতীশ কুমারের বাসভবন এবং রাজভবনের নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে র্যাফ (RAF)। বিহারের এই রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিজের দলের কর্মীদের হাতেই পার্টি অফিস ভাঙচুরের ঘটনা নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক কেরিয়ারে এক বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।