বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যখন যুদ্ধের দামামা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে, ঠিক তখনই শান্তির পক্ষে জোরালো সওয়াল করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইউক্রেন থেকে মধ্যপ্রাচ্য—সর্বত্রই বারুদের গন্ধে ভারী আকাশ। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে মোদি আবারও স্পষ্ট করে দিলেন যে, “অস্ত্র দিয়ে কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।” বুধবার এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় তিনি বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান, যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে আলোচনার টেবিলে ফেরার জন্য।
কূটনীতিই একমাত্র রাস্তা প্রধানমন্ত্রী মোদি দীর্ঘ দিন ধরেই বলে আসছেন, “এটি যুদ্ধের যুগ নয়।” এদিন সেই সুরকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে তিনি বলেন, যেখানে গোলাগুলি চলে, সেখানে মানুষের আর্তনাদ বাড়ে, সমাধান আসে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, আধুনিক বিশ্বের সামনে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে—তা সে জলবায়ু পরিবর্তন হোক বা দারিদ্র্য—সেগুলো মোকাবিলার জন্য বিশ্বকে একজোট হওয়া প্রয়োজন, পরস্পরকে ধ্বংস করা নয়। মোদির এই বার্তা মূলত ইজরায়েল-হামাস এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ভারতের অবস্থান ও মানবিকতা মোদি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, ভারত সর্বদা সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার পক্ষে। কিন্তু সেই অধিকার রক্ষার লড়াই যেন অগণিত নিরপরাধ মানুষের প্রাণ না কাড়ে। ভারতের বিদেশনীতির মূল ভিত্তি যে ‘বসুধৈব কুটুম্বকম্’ (বিশ্বই এক পরিবার), সেই মন্ত্রকেই তিনি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বাস করেন, আলোচনার মাধ্যমে এমন এক মধ্যপন্থা খুঁজে বের করা সম্ভব, যা উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তির সহায়ক।
বিশ্বমঞ্চে ভারতের ভূমিকা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদির এই ‘সফট পাওয়ার’ কূটনীতি ভারতকে বিশ্বশান্তির দূত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। যেখানে বড় শক্তিগুলো কোনো না কোনো পক্ষ নিচ্ছে, সেখানে ভারত নিরপেক্ষ থেকে শান্তির কথা বলছে। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান যদি বিশ্বনেতারা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেন, তবে বিশ্বজুড়ে চলা অস্থিরতা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন দেখার, মোদির এই শান্তির ডাক যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর রণকৌশলে কোনো বদল আনে কি না।