একটি চড় আর তার পরেই সব শেষ। ‘সরি’ বলে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক যুবক। পুলিশের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার অপমানেই কি এই চরম পথ বেছে নিলেন তিনি? এই প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছে নিহতের পরিবার। ঘটনার জেরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে এলাকা। উত্তেজনা সামাল দিতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
ঠিক কী ঘটেছিল? স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃত যুবকের নাম রাহুল (নাম পরিবর্তিত)। কোনো একটি ছোট বিবাদের জেরে তাঁকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ, সেখানে কর্তব্যরত এক পুলিশ আধিকারিক সবার সামনে তাঁকে সজোরে চড় মারেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ওই যুবক। থানা থেকে ছাড়া পাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তিনি তাঁর বন্ধুদের ফোনে ‘সরি’ লিখে একটি মেসেজ পাঠান এবং রেললাইনে গিয়ে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন।
পরিবারের হাহাকার ও বিক্ষোভ ছেলের মৃত্যুর খবর পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবার। তাঁদের দাবি, “আমার ছেলে চোর ছিল না, অপরাধীও ছিল না। পুলিশের ওই একটা চড় ওর সম্মান কেড়ে নিয়েছিল।” এই অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দারা পথ অবরোধ শুরু করেন। অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকের শাস্তির দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। পুলিশের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখান উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশের বয়ান যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। জেলা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে থানায় কোনো অস্বাভাবিক আচরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” আপাতত ওই এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে।