ভারত সরকার এবং আয়কর দফতর (Income Tax Department) বর্তমানে কর ফাঁকি রোধে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে এখন আপনার প্রতিটি বড় লেনদেনের ওপর নজর রাখছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI। অনেকেই অজান্তে এমন কিছু আর্থিক লেনদেন করে ফেলেন, যার ফলে পরবর্তীকালে বড়সড় আইনি জটিলতা বা আয়কর নোটিশের মুখে পড়তে হয়। আপনি যদি মনে করেন যে আপনার ছোটখাটো লেনদেন কেউ দেখছে না, তবে আপনি ভুল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত ১০টি প্রধান লেনদেনের ক্ষেত্রে আয়কর দফতর সবথেকে বেশি সক্রিয় থাকে। প্রথমত, ব্যাঙ্কে নগদ জমা বা তোলা। সেভিংস অ্যাকাউন্টে বছরে ১০ লক্ষ টাকার বেশি নগদ জমা করলে ব্যাঙ্ক সরাসরি সেই তথ্য আয়কর দফতরকে জানাতে বাধ্য। কারেন্ট অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে এই সীমা ৫০ লক্ষ টাকা। দ্বিতীয়ত, ফিক্সড ডিপোজিট। যদি কোনো ব্যক্তি বছরে ১০ লক্ষ টাকার বেশি এফডি (FD) করেন, তবে তাঁর আয়ের উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন উঠতে পারে।
তৃতীয়ত, ক্রেডিট কার্ডের বিল মেটানো। যদি আপনি বছরে ১ লক্ষ টাকার বেশি ক্রেডিট কার্ডের বিল নগদে মেটান, তবে আপনি সরাসরি রাডারে চলে আসবেন। আবার বছরে মোট ১০ লক্ষ টাকার বেশি বিল যেকোনো মাধ্যমে মেটানো হলেও তা নজরদারির আওতায় পড়ে। চতুর্থত, স্থাবর সম্পত্তি কেনাবেচা। ৩০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি মূল্যের জমি বা বাড়ি কেনাবেচা করলে সেই তথ্য সাব-রেজিস্ট্রার আয়কর দফতরকে পাঠিয়ে দেন। পঞ্চমত, শেয়ার বাজার, মিউচুয়াল ফান্ড বা বন্ডে বিনিয়োগ। বছরে ১০ লক্ষ টাকার বেশি এই সমস্ত ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করলে আপনাকে অবশ্যই আয়ের সঠিক প্রমাণ দিতে হবে।
ষষ্ঠত, বৈদেশিক মুদ্রা কেনা। বিদেশ ভ্রমণ বা অন্য কারণে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় করলে তা নজর এড়ায় না। সপ্তমত, গাড়ি ক্রয়। উচ্চমূল্যের গাড়ি কিনলে আপনার প্যান কার্ডের তথ্য ব্যবহার করে আয়ের সাথে সঙ্গতি দেখা হয়। অষ্টমত, দামী গয়না বা বিলাসদ্রব্য ক্রয়। নগদে বড় অঙ্কের গয়না কিনলে বিপদে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। নবমত, ব্যবসায়িক লেনদেনে প্যান কার্ডের সঠিক ব্যবহার না করা। এবং দশমত, রিটার্ন দাখিলের সময় আয়ের তথ্য গোপন করা।
আপনার অ্যাকাউন্টে যদি এই ধরনের লেনদেন হয়ে থাকে, তবে আজই সতর্ক হন। মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে আয়কর প্রদান এবং স্বচ্ছ লেনদেনই আপনাকে আইনি ঝামেলা থেকে মুক্তি দিতে পারে।