জিমে আর চলবে না ‘লাভ জিহাদ’! উত্তরপ্রদেশের জিম ট্রেনারদের জন্য কড়া ফরমান যোগী সরকারের

উত্তরপ্রদেশের জিমগুলোতে পুরুষ ট্রেনারদের হাতে হিন্দু মেয়েদের ধর্মান্তকরণ এবং ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগ নিয়ে এবার রণংদেহী মেজাজে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। অভিযোগ উঠেছে, জিমের আড়ালে অনেক ক্ষেত্রে পরিকল্পনা করে প্রেমের জালে ফাঁসানো হচ্ছে তরুণীদের, আর তারপরই ঘটছে ধর্ম পরিবর্তন। এই প্রবণতা রুখতে এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যোগী সরকার একগুচ্ছ নতুন ও কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে।

কড়া নজরে জিম ও কোচিং সেন্টার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের প্রতিটি জিমে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মহিলা ট্রেইনি বা ছাত্রীদের শেখানোর জন্য শুধুমাত্র মহিলা ট্রেনারই রাখা যাবে। কোনো পুরুষ ট্রেনার কোনো মহিলাকে সরাসরি প্রশিক্ষণ দিতে পারবেন না। জিম মালিকদের স্পষ্ট জানানো হয়েছে, প্রত্যেক কর্মীর পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং পরিচয়পত্র যাচাই করা আবশ্যিক। কোনো ধরনের প্ররোচনা বা অসামাজিক কার্যকলাপের প্রমাণ মিললে জিমটি স্থায়ীভাবে সিল করে দেওয়া হবে।

কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত? সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ঘটনায় দেখা গেছে, পুরুষ জিম ট্রেনাররা নিজেদের আসল পরিচয় গোপন করে হিন্দু তরুণীদের সাথে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করছেন। অভিযোগ উঠেছে, সুকৌশলে তাঁদের মগজ ধোলাই করে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এই নিয়ে বারবার প্রশাসনের কাছে নালিশ জানানো হয়েছিল। রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং মেয়েদের আত্মমর্যাদা রক্ষা করতে যোগী আদিত্যনাথ নিজেই এই ফাইল খতিয়ে দেখে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রশাসনের হুঁশিয়ারি লখনউ প্রশাসন জানিয়েছে, নিয়ম লঙ্ঘিত হলে লাইসেন্স বাতিল করা হবে। জিমের ভেতরে অন্ধকার বা গোপন কোনো কুঠুরি রাখা যাবে না। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সব সময় প্রকাশ্য স্থানে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে যেমন রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তেমনই একাংশ সাধারণ মানুষ যোগীর এই ‘আয়রন ফিস্ট’ নীতিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy