নেতানিয়াহুর দপ্তরে ইরানের মিসাইল হামলা! মধ্যপ্রাচ্যে কি তবে মহাপ্রলয় শুরু?

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে পরিস্থিতি এখন অগ্নিগর্ভ। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর (PMO) লক্ষ্য করে মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান—তেহরানের এই চাঞ্চল্যকর দাবির পর বিশ্বজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইরান সরকারের দাবি, তাদের ভূখণ্ডে চালানো নৃশংস হামলার উপযুক্ত জবাব দিতেই এই সরাসরি প্রত্যাঘাত করা হয়েছে।

ইরানে লাশের পাহাড়: মৃত্যুমিছিল অন্তত ৫৫৫ ইরানিয়ান রেড ক্রেসেন্ট সোসাইটির দেওয়া সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানে অন্তত ৫৫৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষের আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। রেড ক্রেসেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হতাহতদের মধ্যে সাধারণ নাগরিকের সংখ্যাই বেশি, যা তেহরানের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রতিক্রিয়ায় ইরান কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, যার প্রতিফলন দেখা গেল নেতানিয়াহুর অফিস লক্ষ্য করে ছোড়া মিসাইল হামলায়।

টার্গেট নেতানিয়াহুর দপ্তর ইরানের উচ্চপর্যায়ের সামরিক সূত্রের খবর, তারা ইজরায়েলের সুরক্ষিত ‘রেড জোন’ বা প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র লক্ষ্য করে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। মূলত নেতানিয়াহুর দপ্তরে আঘাত হানাই ছিল এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। যদিও ইজরায়েলি পক্ষ থেকে এখনও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্পষ্ট করা হয়নি, তবে ঘটনার পর থেকেই গোটা তেল আভিভে যুদ্ধের সাইরেন বাজছে। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) হাই অ্যালার্ট জারি করেছে এবং আকাশপথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় টার্গেট হওয়া মানে এই সংঘাত আর কেবল সীমান্ত লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। আমেরিকার সক্রিয় অংশগ্রহণ পরিস্থিতিকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। হোয়াইট হাউস পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানলে ইজরায়েলের কোনো অংশই নিরাপদ থাকবে না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy