২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, বাংলার রাজনীতিতে ততই স্পষ্ট হচ্ছে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সমীকরণ। এই আবহে এক সময়ের তৃণমূল ঘনিষ্ঠ এবং প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ জহর সরকারের সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন জল্পনার জন্ম দিল। সোমবার ‘বাংলার পুনরুত্থান এবং বিকল্পের ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগামী নির্বাচনে তিনি কোনোভাবেই প্রার্থী হতে চান না।
বক্তব্য রাখতে উঠে জহর সরকার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপি—উভয় পক্ষকেই তীব্র আক্রমণ করেন। আরজি কর ইস্যু এবং দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। অন্যদিকে, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহার নিয়ে বিজেপিকেও বিঁধতে ছাড়েননি তিনি। তাঁর মতে, বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ দুই প্রধান শক্তির বাইরে একটি ‘বিকল্প’ খুঁজছে।
জহর সরকারের এই ‘বিকল্পের ভাবনা’ রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি সংসদীয় রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ। নতুন এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষদের রাজনীতিতে আসা উচিত।” তাঁর এই অবস্থানের ফলে অনেকেই মনে করছেন, তিনি কি তবে বাম-কংগ্রেস বা কোনো অরাজনৈতিক নাগরিক মঞ্চের পক্ষে সওয়াল করছেন? যদিও জহর সরকার সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট দলের নাম নেননি, তবে তাঁর ‘না-প্রার্থী’ হওয়ার ঘোষণা এবং উভয় পক্ষকে তোপ তৃণমূল শিবিরের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।