পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের মেঘের মাঝে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করল ব্রিটেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার জানিয়ে দিলেন, ইরানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় লন্ডনের কোনো প্রত্যক্ষ ভূমিকা নেই। ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করা হলেও তা কেবলমাত্র আত্মরক্ষার স্বার্থে, কোনো আক্রমণাত্মক অভিযানে নয়।
ইরাক যুদ্ধের স্মৃতি ও শিক্ষা:
প্রধানমন্ত্রী স্টার্মার ২০০৩ সালের বিতর্কিত ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আমরা ইরাকের ভুল ভুলিনি, সেখান থেকে শিক্ষা নিয়েছি।” টনি ব্লেয়ারের জমানায় আমেরিকার সঙ্গী হয়ে ইরাক যুদ্ধে নামার মাশুল ব্রিটেনকে অনেক দিতে হয়েছে। তাই এবার সচেতনভাবেই সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে যেতে চাইছে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট।
নাগরিক নিরাপত্তা ও ব্রিটিশ ঘাঁটি:
বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় প্রায় দুই লক্ষ ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। স্টার্মার জানান, ইরান কেবলমাত্র ইজরায়েল নয়, বরং ব্রিটিশ ঘাঁটি ও নাগরিকদের আবাসনগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। বাহরিনে একটি ব্রিটিশ ঘাঁটিতে হামলা হলেও বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। স্টার্মারের দাবি, ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে, যা সম্পূর্ণই আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ।
কূটনীতির ওপর জোর:
আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-র মৃত্যুর পর ইরান আরও বেপরোয়া হয়ে উঠলেও ব্রিটেন মনে করে আলোচনা ও কূটনীতিই এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান। স্টার্মারের কথায়, “আমরা সরাসরি হামলায় জড়াব না। কারণ আলোচনার মাধ্যমেই এই বিশ্বের স্বার্থ সুরক্ষিত করা সম্ভব।”