মধ্যপ্রাচ্যের রণভূমি এবার এক ঐতিহাসিক মোড় নিল। দীর্ঘদিনের জল্পনা ও উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে খবর আসছে, ইজরায়েলি বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই। এই চাঞ্চল্যকর খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পরেই গোটা ইরানে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই দেশে ৪০ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, তেহরানের একটি গোপন বাংলো লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট টার্গেটেড হামলা চালায় ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (IDF)। এই অপারেশনে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA)-র সক্রিয় সহযোগিতা ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। খামেনেইর মৃত্যু কেবল ইরানের জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের ভূ-রাজনীতিতে এক বিশাল ভূমিকম্পের মতো। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই সফল অপারেশনের ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন যে, “শত্রুদের আর ছাড় দেওয়া হবে না।”
অন্যদিকে, তেহরানের রাস্তায় নেমে এসেছে কান্নার রোল। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রেভল্যুশনারি গার্ডসের সদস্যরা শোকে স্তব্ধ। তবে শোকের পাশাপাশি দানা বাঁধছে চরম প্রতিশোধের স্পৃহা। ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব জানিয়ে দিয়েছে, এই রক্ত বৃথা যাবে না। ইতিমধ্যেই লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথিরা যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করেছে। আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ঘাঁটিগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।
এই ঘটনার ফলে অপরিশোধিত তেলের বিশ্ববাজারে বড়সড় ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। খামেনেইর মৃত্যুর পর ইরানের পরবর্তী নেতা কে হবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে ক্ষমতার লড়াই। ৪০ দিনের এই শোক চলাকালীন ইরান কি ইজরায়েলের ওপর সরাসরি কোনো মিসাইল হামলা চালাবে? এই প্রশ্নই এখন বিশ্ববাসীর মনে।