ষাট বছরের ঐতিহ্যে তালা পড়ার জোগাড়! মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মাত্র ৩ জন, কেন এই হাল স্কুলের?

যে স্কুলের বয়স ষাট ছুঁইছুঁই, যেখান থেকে একসময় বের হতো মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা, আজ সেখানে শ্মশানের স্তব্ধতা। পশ্চিম মেদিনীপুরের এক প্রাচীন সরকারি স্কুলে এবার মাধ্যমিক দিচ্ছে মাত্র ৩ জন পড়ুয়া। এই ছবি সামনে আসতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এবার পাকাপাকিভাবে বন্ধ হতে চলেছে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান?

অব্যবস্থার পাহাড়, সরব অভিভাবকরা: স্কুলের এই করুণ অবস্থার জন্য প্রশাসনের উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন গ্রামবাসীরা। স্থানীয় বাসিন্দা শিবু দাস এবং প্রলয় দাসদের দাবি, “স্কুলের পরিকাঠামো বলতে কিচ্ছু নেই। পড়ার পরিবেশ তলানিতে ঠেকেছে। আমরা এই গ্রামের মানুষ হয়েও বাধ্য হয়ে সন্তানদের দূরের স্কুলে পাঠাচ্ছি।” অভিভাবকদের সাফ কথা, বাড়ির কাছের স্কুলে যদি পড়াশোনা ভালো হতো, তবে কেন তাঁরা সন্তানদের ঝুঁকি নিয়ে দূরে পাঠাতেন?

ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়: মাত্র ৩ জন পরীক্ষার্থী থাকা একটি স্কুলের উপযোগিতা নিয়ে এবার শিক্ষা মহলেও কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, পড়ুয়া সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমার নিচে নেমে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই স্কুল সংযুক্তিকরণ বা বন্ধ করে দেওয়ার পথে হাঁটে সরকার। পরিকাঠামোর অভাব আর ছাত্রশূন্য শ্রেণিকক্ষ আজ এই ঐতিহ্যের সামনে বড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলিয়ে দিয়েছে। ৬০ বছরের ইতিহাস কি তবে এভাবেই ফুরিয়ে যাবে? উত্তরের অপেক্ষায় স্থানীয় মানুষ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy