কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI নিয়ে আমরা যখন মেতে আছি, ঠিক তখনই এক ভয়াবহ আশঙ্কার কথা শোনাল আমেরিকার এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড এনার্জি স্টাডি ইনস্টিটিউট (EESI)। মানুষের চাকরি কেড়ে নেওয়া নিয়ে তো বিতর্ক ছিলই, এবার সামনে এল এক নতুন আতঙ্ক— জলের সংকট। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডেটা সেন্টারগুলো প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ লিটার জল সাবাড় করছে।
কেন এত জল লাগে AI-এর? আসলে আমরা যখন ইন্টারনেটে সার্চ করি বা কোনো AI টুল ব্যবহার করি, তখন সেই তথ্যগুলো প্রসেস হয় বিশালাকার ডেটা সেন্টারে। এই সেন্টারগুলোতে হাজার হাজার সার্ভার চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করে। এর ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। এই সার্ভারগুলোকে ঠান্ডা রাখতে এবং কম্পিউটার চিপ যাতে গলে না যায়, তার জন্য জল দিয়ে কুলিং সিস্টেম চালানো হয়। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে শুধুমাত্র AI-এর কারণেই জলের চাহিদা ৬.৬ বিলিয়ন কিউবিক মিটারে পৌঁছাতে পারে।
পরিবেশে এর প্রভাব কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সাধারণ চ্যাট-বটের সঙ্গে ২০ থেকে ৫০টি কথোপকথন মানেই প্রায় ৫০০ মিলিলিটার জল খরচ হওয়া। মাইক্রোসফট, গুগল এবং মেটার মতো টেক জায়ান্টদের ডেটা সেন্টারগুলো যে পরিমাণ জল ব্যবহার করছে, তাতে আগামী দিনে পানীয় জলের আকাল দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যে এলাকাগুলোতে এমনিতেই জলস্তর কম, সেখানে এই বড় বড় সার্ভার রুমগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের জলের অধিকারে থাবা বসাচ্ছে। উন্নয়নের দোহাই দিয়ে প্রকৃতির এই বিপুল ক্ষতি নিয়ে এখন চিন্তিত পরিবেশবিদরা।