পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের পালা নতুন নয়, তবে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে নজিরবিহীন ভাষায় তোপ দাগলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। মমতাকে দেশের সবথেকে ‘সাম্প্রদায়িক’ নেত্রী হিসেবে অভিহিত করে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে ইসলামিক মৌলবাদকে প্রশ্রয় দিচ্ছে তৃণমূল সরকার। সুকান্তের এই মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্কের ঝড়।
বিজেপির একটি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে চরম তোষণের রাজনীতি করছেন। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো সাম্প্রদায়িক এবং ইসলামিক মৌলবাদী মানসিকতার নেত্রী এই দেশে আর কেউ নেই। তিনি বিভাজনের রাজনীতি করে বাংলার শান্তি নষ্ট করছেন।” সুকান্ত আরও দাবি করেন যে, রাজ্যের সীমান্ত এলাকাগুলোতে যে জনবিন্যাস পরিবর্তন হচ্ছে, তার নেপথ্যেও রয়েছে রাজ্য সরকারের ‘মদত’।
তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য সুকান্তের এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, রাজ্যে বিজেপির পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে বলেই তারা এখন মেরুকরণের রাজনীতিতে শান দিচ্ছে। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে হিন্দু ভোটকে একজোট করতেই সুকান্ত মজুমদারের এই আক্রমণাত্মক রণকৌশল। সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশ ইস্যুতে যেভাবে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ শানিয়েছেন, তাতে আগামী দিনে সংঘাত আরও বাড়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট।