ধর্মের চেয়েও বড় নাড়ির টান! ১০ বছর পর ‘ঘরওয়াপসি’ মুসলিম মায়ের, কান্নায় ভেঙে পড়লেন হিন্দু ছেলে

সম্পর্কের জয়গাথা নাকি ধর্মের গোঁড়ামি? শেষ পর্যন্ত নাড়ির টানের কাছে হার মানল কৃত্রিম বিভাজন। দীর্ঘ এক দশকের বিচ্ছেদ, চোখের জল আর ধর্মীয় সংঘাতের টানাপোড়েন শেষে পূর্ণতা পেল মা-ছেলের সম্পর্ক। যে ছেলে ধর্মের দোহাই দিয়ে মাকে পর করে দিয়েছিলেন, আজ সেই ছেলেই নিজের ভুল স্বীকার করে মাকে সসম্মানে ঘরে ফিরিয়ে আনলেন। উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সীমানা ছাড়িয়ে এই মানবিক কাহিনী এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

বিচ্ছেদের নেপথ্যে ‘ধর্ম’ ঘটনার সূত্রপাত প্রায় ১০ বছর আগে। পারিবারিক অশান্তি ও ব্যক্তিগত কারণে ঘর ছেড়েছিলেন মা। পরবর্তীতে তিনি ভিন ধর্মে ধর্মান্তরিত হন এবং এক মুসলিম ব্যক্তিকে বিবাহ করেন। এদিকে ছেলে হিন্দু ধর্মাবলম্বী হিসেবেই বড় হন। বছর খানেক আগে যখন মা ও ছেলের পুনরায় যোগাযোগ হয়, তখন বাধা হয়ে দাঁড়ায় ‘সমাজ’ ও ‘ধর্ম’। নিজের ধর্মে আঘাত লাগতে পারে, এই আশঙ্কায় এবং লোকলজ্জার ভয়ে মাকে কাছে পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ছেলে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, অন্য ধর্মের কাউকে তিনি মা হিসেবে ঘরে জায়গা দিতে পারবেন না।

হৃদয় পরিবর্তন ও অনুশোচনা কিন্তু রক্ত কি আর ধর্মের নিয়ম মানে? মা একা দূরে অসুস্থ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন শুনে ছেলের মন কেঁদে ওঠে। সম্প্রতি মায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। ছেলে জনসমক্ষে স্বীকার করেন, “ধর্ম মানুষের তৈরি, কিন্তু মা ভগবানের দান। আমি এতদিন যে ভুল করেছি, তার জন্য লজ্জিত। মা কোন ধর্ম পালন করছেন সেটা বড় নয়, তিনি আমার মা—এটাই শেষ কথা।”

মহামিলনের মুহূর্ত ছেলের এই বোধদয় দেখে খুশি প্রতিবেশীরাও। গতকাল ঘটা করে মাকে নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন তিনি। গ্রামবাসী ও আত্মীয়দের উপস্থিতিতে এই ‘মহামিলন’ সম্পন্ন হয়। ছেলে জানিয়েছেন, মায়ের খাদ্যাভ্যাস বা উপাসনা পদ্ধতিতে তিনি কোনো হস্তক্ষেপ করবেন না। বরং মা তাঁর নিজের বিশ্বাস নিয়েই ছেলের সংসারে শেষ জীবনটা কাটাবেন। ধর্মীয় গোঁড়ামির উর্ধ্বে উঠে এই মানবিক পদক্ষেপ সমাজকে এক নতুন দিশা দেখাল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy