ভারতের রঙের উৎসব ‘হোলি’ এখন আর কেবল দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, তা বিশ্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করেই ভারতীয় অর্থনীতিতে এক বিশাল জোয়ারের পূর্বাভাস দিচ্ছে বাণিজ্য মহল। চলতি বছরে হোলির মরসুমে ভারত জুড়ে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকদের ব্যাপক আনাগোনা এই বিপুল আর্থিক লেনদেনের অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক তথ্য বা ডেটা বলছে, হোলির সময় ভারতের একাধিক ঐতিহ্যবাহী শহর সম্পর্কে ইন্টারনেটে সার্চের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে মথুরা, বৃন্দাবন, পুষ্কর, জয়পুর এবং বারানসীর মতো শহর— যাদের এক রাজকীয় আভিজাত্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে, সেখানে বিদেশি পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়ছে। পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২২ সালে হোলির সময় দেশের অর্থনীতিতে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত যুক্ত হয়েছিল। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সেই পরিসংখ্যান যে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে, তা বলাই বাহুল্য।
ব্যবসা ও অর্থনীতির এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ কেবল পর্যটন শিল্পেই নয়, বরং খুচরো বাজার, হসপিটালিটি সেক্টর এবং বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিদেশিরা এখন কেবল রং খেলতেই ভারতে আসছেন না, তাঁরা ভারতের এই লোকজ সংস্কৃতিকে অনুভব করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে আসছেন। ফলে হোটেল বুকিং থেকে শুরু করে স্থানীয় হস্তশিল্পের বিক্রি— সবক্ষেত্রেই রেকর্ড লক্ষ্মীলাভের আশায় বুক বাঁধছেন ব্যবসায়ীরা। সব মিলিয়ে, বসন্তের এই উৎসব ভারতীয় অর্থনীতির ঝুলি পূর্ণ করতে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে।