আইন ও আবেগের এক অনন্য মেলবন্ধনের সাক্ষী থাকল আদালত। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে জেলের অন্ধকার চার দেওয়ালে বন্দি রয়েছেন এক ব্যক্তি। কিন্তু তাঁর মেয়ের সামনে জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা—বোর্ড এক্সাম। এই কঠিন সময়ে বাবার সান্নিধ্য এবং আশীর্বাদ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল পরিবার। অবশেষে সমস্ত দিক বিচার করে ওই জেলবন্দি বাবাকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ‘ছুটি’ বা প্যারোলে মুক্তি দিল আদালত।
আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানায়, একজন বন্দির সাজা চললেও তাঁর সন্তানের ভবিষ্যতের প্রতি দায়বদ্ধতা অস্বীকার করা যায় না। বিশেষ করে বোর্ডের পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একজন ছাত্রীর মানসিক শক্তির জন্য তাঁর বাবার উপস্থিতি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারে। এই মানবিক খাতিরেই কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে তাঁকে বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তবে এই মুক্তি স্থায়ী নয়। আদালতের দেওয়া শর্ত অনুযায়ী, পরীক্ষার নির্দিষ্ট দিনগুলিতেই তিনি বাড়িতে থাকতে পারবেন এবং সময়সীমা শেষ হলেই পুনরায় তাঁকে ফিরে যেতে হবে সংশোধনাগারে। ১১ বছর পর বাবাকে কাছে পেয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি মেয়েটি। শিক্ষা ও আইনি মহলের মতে, এই ধরণের সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে আইনের কঠোর শাসনের মধ্যেও মানবিকতার স্থান এখনও অমলিন।