দরজায় কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন। আর নির্বাচনকে সামনে রেখেই রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। বিশেষ করে কলকাতার অন্যতম হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র ‘বেহালা পশ্চিম’ নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে জল্পনার পারদ তুঙ্গে। দীর্ঘদিনের বিধায়ক তথা প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বর্তমানে জেলবন্দি। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়ানোর পর দল তাঁকে সাসপেন্ড করলেও, তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্রে এবার তাঁর স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে চলছে তুমুল মন্থন।
সূত্রের খবর, তৃণমূলের একটি খসড়া প্রার্থী তালিকা সামনে এসেছে যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই তালিকায় দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের অধিকাংশ দুঁদে তৃণমূল নেতাকে তাঁদের পুরনো কেন্দ্রেই বহাল রাখা হলেও, বেহালা পশ্চিমের ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যে কেন্দ্রটি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ‘গড়’ হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানে এবার কোনো নতুন এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাকে টিকিট দেওয়ার কথা ভাবছে ঘাসফুল শিবির।
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, নিয়োগ দুর্নীতির ছায়া যাতে ভোটের বাক্সে প্রভাব না ফেলে, তার জন্য বেহালা পশ্চিমে এমন কাউকে প্রার্থী করা প্রয়োজন যার গ্রহণযোগ্যতা সর্বস্তরে রয়েছে। খসড়া তালিকায় জনৈক হেভিওয়েট নেত্রীর নাম যেমন ঘোরাফেরা করছে, তেমনই জল্পনা রয়েছে দক্ষিণ কলকাতার এক প্রভাবশালী কাউন্সিলরকে নিয়েও। এমনকি, বেহালার ভূমিপুত্র কোনো সেলিব্রিটি মুখকেও সেখানে দেখা যেতে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
বিরোধী শিবির অবশ্য এই সুযোগ ছাড়তে নারাজ। বিজেপি এবং বামেরা ইতিমধ্যেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ইস্যুকে হাতিয়ার করে প্রচারে নেমেছে। তাদের দাবি, “মুখ বদলালেই দুর্নীতি ঢাকা যাবে না।” তবে তৃণমূলের রণকৌশল বলছে, মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত করতে এবং হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতে ‘ফ্রেশ ফেস’ বা নতুন মুখই হবে তাদের তুরুপের তাস। বেহালার মানুষের কাছেও এখন একটাই প্রশ্ন—পার্থর উত্তরাধিকারী হিসেবে কার নাম ঘোষণা করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? খসড়া তালিকা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই উৎকণ্ঠা বজায় থাকবে।