রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে ধরে নজিরবিহীন বিক্ষোভের সাক্ষী থাকল সল্টলেকের সিইও (Chief Electoral Officer) দপ্তর চত্বর। বুধবার সন্ধ্যায় যখন শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে যাচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় একদল বিক্ষোভকারী তাঁকে লক্ষ্য করে স্লোগান দিতে শুরু করে। পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে যখন বিক্ষোভকারীদের একাংশ বিরোধী দলনেতাকে লক্ষ্য করে জুতো উঁচিয়ে দেখান। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার গাফিলতির অভিযোগ তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিল রাজ্য বিজেপি।
ঘটনার সূত্রপাত জানা গিয়েছে, এদিন বিএলও (BLO) সংক্রান্ত কিছু দাবিদাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন একদল মানুষ। সেই সময় শুভেন্দু অধিকারী সিইও দপ্তরে পৌঁছালে তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা শুভেন্দুর গাড়ি আটকে দেয় এবং অত্যন্ত কুরুচিকর অঙ্গভঙ্গি করে। এর মধ্যেই কয়েকজনকে জুতো উঁচিয়ে প্রদর্শন করতে দেখা যায়, যা নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় কোনোক্রমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়।
কমিশনে বিজেপির নালিশ এই ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসেছে বিজেপি নেতৃত্ব। দলের পক্ষ থেকে সোহিনী রায়ের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, একজন ক্যাবিনেট পদমর্যাদার বিরোধী দলনেতাকে এইভাবে হেনস্থা করা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতিরই প্রমাণ। বিজেপির দাবি, এই বিক্ষোভ পরিকল্পিত ছিল। নির্বাচন কমিশনে পাঠানো চিঠিতে গেরুয়া শিবির অভিযোগ করেছে যে, পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগায় এই ঘটনা ঘটেছে এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর বিজেপির অভিযোগের প্রেক্ষিতে পালটা শাসক দল তৃণমূলের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এটি। তবে জুতো দেখানোর মতো ঘটনা সমর্থনযোগ্য কি না, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ পাওয়ার পর কী পদক্ষেপ নেয় এবং সল্টলেকের মতো হাই-প্রোফাইল এলাকায় নিরাপত্তার ফাঁক নিয়ে কী কৈফিয়ত চাওয়া হয়, এখন সেটাই দেখার।