আইন কি আবেগের কাছে হার মানতে পারে? ওড়িশা হাইকোর্টের একটি সাম্প্রতিক রায়ে সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এল। খুনের দায়ে জেলবন্দি এক বাবা তাঁর মেয়ের দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার সময় পাশে থাকার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই স্পর্শকাতর মামলার প্রেক্ষিতে এক তাৎপর্যপূর্ণ মানবিক নির্দেশ দিল ওড়িশা উচ্চ আদালত।
আদালত সূত্রে খবর, আবেদনকারী ব্যক্তি খুনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। কিন্তু তাঁর নাবালিকা মেয়ে জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা অর্থাৎ দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় বসছে। এই সময়ে বাবার উপস্থিতি মেয়ের মানসিক বল বাড়াতে সাহায্য করবে—এই যুক্তিতেই জামিনের আরজি জানানো হয়েছিল। ওড়িশা হাইকোর্টের বিচারপতিরা মামলার গুরুত্ব এবং মানবিক দিকটি বিবেচনা করে ওই ব্যক্তিকে শর্তসাপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন।
আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, বাবার অপরাধ যাই হোক না কেন, সন্তানের শিক্ষার অধিকার এবং পরীক্ষার সময় অভিভাবকের মানসিক সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি অগ্রাহ্য করা যায় না। তবে জামিন চলাকালীন ওই ব্যক্তিকে কড়া নজরদারিতে থাকতে হবে এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হলেই পুনরায় জেলে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এই রায় আইনি মহলে যেমন চর্চিত হচ্ছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মনেও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।