বিধানসভা নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হতেই বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মোড়। এবার সরাসরি বাংলার সাধারণ মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্তরে যোগাযোগ করতে ‘আবেগ’ ও ‘সংস্কৃতি’কে হাতিয়ার করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার থেকেই রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে এবং পাড়ায় পাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সই করা একটি বিশেষ চিঠি পৌঁছে দিতে শুরু করেছেন বিজেপি কর্মীরা। এই চিঠির সবথেকে বড় চমক হলো এর শুরুয়াত— উত্তর ভারতের ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান নয়, বরং মোদী তাঁর চিঠি শুরু করেছেন নিখাদ বাঙালি আবেগ ‘জয় মা কালী’ মন্ত্র দিয়ে।
চিঠিতে কী লিখলেন প্রধানমন্ত্রী? চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “আমার স্বপ্নের সোনার বাংলা আজ বঞ্চনার শিকার। মা-বোনদের নিরাপত্তা এবং যুবকদের কর্মসংস্থান নিয়ে আমি অত্যন্ত মর্মাহত।” তিনি আরও যোগ করেন যে, গত কয়েক দশকের অপশাসন ও তুষ্টিকরণের রাজনীতি বাংলার গৌরব ধূলিসাৎ করেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই বিখ্যাত কবিতার কথা স্মরণ করে তিনি লিখেছেন, এমন এক পশ্চিমবঙ্গ গড়াই তাঁর সংকল্প যেখানে— “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির।”
বাঙালি ভোটারদের জন্য বিশেষ ঘোষণা: প্রধানমন্ত্রী কেবল আবেগের কথা বলেননি, চিঠিতে তুলে ধরেছেন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সাফল্যের খতিয়ানও। তিনি স্পষ্ট করেছেন:
-
সিএএ (CAA): ধর্মীয়ভাবে অত্যাচারিত হয়ে আসা শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি।
-
অনুপ্রবেশ: বাংলাকে অনুপ্রবেশমুক্ত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার আশ্বাস।
-
উন্নয়ন: জনধন যোজনা থেকে উজ্জ্বল যোজনা— কীভাবে কেন্দ্র সরাসরি বাংলার ৫ কোটি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি এবার তাদের ‘বহিরাগত’ তকমা ঝেড়ে ফেলতে মা কালী ও মা দুর্গার আরাধনাকেই রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে চাইছে। এর আগে বিজেপি নেতাদের মুখে ‘জয় শ্রী রাম’ শোনা গেলেও, মোদীর এই ‘জয় মা কালী’ সম্ভাষণ আসলে তৃণমূলের ‘বাঙালি তাস’-এর পাল্টা জবাব বলেই মনে করা হচ্ছে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে এই চিঠি ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।