কয়েক দশকের পুরনো সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি (Indus Waters Treaty) নিয়ে ভারতের কড়া অবস্থানের পর এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল নয়াদিল্লি। সিন্ধু চুক্তির শর্তাবলীতে পাকিস্তানের আপত্তির জেরে ভারত এই চুক্তি স্থগিত করার ইঙ্গিত দিতেই চেনাব নদীতে প্রথমবারের মতো শুরু হলো ‘ড্রেজিং’ বা নদীগর্ভ থেকে পলি উত্তোলনের কাজ। এর ফলে জম্মু ও কাশ্মীরের রিয়াসি জেলায় অবস্থিত সালাল হাইড্রো-ইলেকট্রিক প্রজেক্টে (Salal Power Station) নতুন করে প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে পলি জমার কারণে সালাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছিল। সিন্ধু চুক্তির কঠোর বিধিনিষেধের কারণে এর আগে নদীগর্ভে খনন বা ড্রেজিংয়ের কাজে নানা আইনি জটিলতা ছিল। কিন্তু ভারত বর্তমানে নিজের অধিকার সুনিশ্চিত করার পথে হাঁটায় সেই বাধা কেটেছে। ড্রেজিং শুরু হওয়ার ফলে নদীতে জলের প্রবাহ বাড়বে এবং টারবাইনগুলো পূর্ণ ক্ষমতায় চলতে পারবে। ফলস্বরূপ, কেন্দ্রশাসিত এই অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকট অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের এই পদক্ষেপে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ইসলামাবাদের দাবি, চেনাব নদীতে এই ধরনের হস্তক্ষেপ চুক্তির পরিপন্থী। তবে ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, নিজেদের জলসম্পদ ব্যবহার করে জনগণের উন্নয়ন নিশ্চিত করা দেশের অগ্রাধিকার। ২০২৬-এর এই কৌশলগত পদক্ষেপ কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বরং জল-রাজনীতিতেও ভারতের এক বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।