পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এবার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প নিয়ে শুরু হলো এক নতুন তরজা। এতদিন বামপন্থীরা এই ধরনের সরাসরি আর্থিক অনুদানকে ‘খয়রাতি’ বলে কটাক্ষ করলেও, এবার সেই সুর বদলে এক বড় ঘোষণা করলেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি সাফ জানিয়েছেন, বামফ্রন্ট আগামীতে ক্ষমতায় আসলে মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের চেয়েও বেশি পরিমাণ আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে। সেলিমের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল গুঞ্জন।
সম্প্রতি এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সেলিম বলেন, “তৃণমূল সরকার অল্প টাকা দিয়ে মানুষের চোখ ভোলাতে চাইছে। আমরা ক্ষমতায় আসলে কেবল ভাণ্ডার নয়, মানুষের পকেটে স্থায়ী রোজগার এবং এর চেয়েও বড় অংকের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করব।” তিনি দাবি করেন, বামপন্থীরা ক্ষমতায় এলে সেই টাকা হবে মানুষের অধিকার, কোনো দয়া নয়। সেলিমের এই মন্তব্যকে অনেকেই তৃণমূলের জনপ্রিয় স্কিমের পাল্টা হিসেবে দেখছেন, যা গ্রামবাংলার মহিলা ভোটারদের নিজেদের দিকে টানার একটি বড় কৌশল হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে বামেরাও এখন বুঝতে পারছে যে, কেবল আদর্শ দিয়ে ভোট টানা কঠিন। তাই কর্মসংস্থানের দাবির পাশাপাশি সরাসরি আর্থিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের মন জয়ের চেষ্টা করছে আলিমুদ্দিন। তবে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন, এতদিন যে প্রকল্পকে বামেরা সমালোচনা করত, এখন কেন সেই পথেই হাঁটতে চাইছে তারা? মহম্মদ সেলিমের এই ঘোষণা কি ২০২৬-এর মহড়া? উত্তর দেবে সময়।