দিল্লি-কলকাতায় নাশকতার ব্লু-প্রিন্ট! বাংলা ও তামিলনাড়ু থেকে গ্রেফতার ৮, নেপথ্যে কি সীমান্তের ওপারের হাত?

ভারতের দুই প্রধান মহানগরী—দিল্লি এবং কলকাতা কি বড়সড় কোনো নাশকতার নিশানায়? সাম্প্রতিক এক অভিযানে পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ু থেকে মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করার পর এই প্রশ্নই এখন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কপালে ভাঁজ ফেলেছে। গোয়েন্দাদের দাবি, ধৃতরা সকলেই একটি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের স্লিপার সেলের সদস্য এবং তাঁদের সঙ্গে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের সরাসরি যোগসূত্র থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

মেট্রো স্টেশনে পোস্টার ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার: ঘটনার সূত্রপাত হয় দিল্লি ও কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় কিছু ‘দেশবিরোধী’ ও উস্কানিমূলক পোস্টার ঘিরে। একইসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় সংশ্লিষ্ট জঙ্গি সংগঠনের সমর্থনে ধারাবাহিক পোস্ট করতে দেখা যায় কিছু সন্দেহভাজন প্রোফাইল থেকে। সাইবার সেল এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো (NIA) এই ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট অনুসরণ করতেই এক ভয়ংকর চক্রান্তের হদিশ পায়।

সাাঁড়াশি অভিযানে কেল্লাফতে: গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, একটি গোপন মডিউল ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কাজ করছিল। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুতে সমান্তরাল অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে জালে তোলা হয়। এদের মধ্যে কয়েকজনকে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা তাঁদের ‘বাংলাদেশ-যোগ’-এর তত্ত্বকে আরও জোরালো করেছে।

নাশকতার ব্লু-প্রিন্ট: প্রাথমিক জেরায় জানা গিয়েছে, ধৃতদের লক্ষ্য ছিল জনবহুল এলাকা, বিশেষ করে মেট্রো স্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় নাশকতা চালানো। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য তাঁরা পরিকল্পনা মাফিক এগোচ্ছিল। তাঁদের কাছ থেকে বেশ কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং উস্কানিমূলক নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

নিরাপত্তা জোরদার: এই গ্রেফতারির পর কলকাতা ও দিল্লির মেট্রো স্টেশনসহ সমস্ত স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতেও। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত এবং সীমান্তের ওপার থেকে কারা অর্থের জোগান দিচ্ছে, তা জানতে জেরা জারি রেখেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy