নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) কাজের চাপে ফের এক চরম পদক্ষেপের সাক্ষী থাকল রাজ্য। শনিবার সকালে শ্রীরামপুর ফেরিঘাট থেকে ব্যারাকপুরগামী একটি লঞ্চে উঠে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ দিলেন বুথ লেভেল অফিসার (BLO) মহম্মদ কায়ামুদ্দিন। ঝাঁপ দেওয়ার আগে তিনি তাঁর এসআইআর-এর নথিপত্র ভর্তি ব্যাগ এবং মোবাইল ফোনটি লঞ্চের আসনেই রেখে যান। লঞ্চের কর্মীদের তৎপরতায় এবং স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সহায়তায় তাঁকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন এবং বিপদমুক্ত।
পেশায় শিক্ষক মহম্মদ কায়ামুদ্দিন টিটাগড়ের বাসিন্দা। উদ্ধারের পর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এসআইআর-এর (Special Intensive Revision) কাজের যে পাহাড়প্রমাণ চাপ ছিল, তা তিনি সহ্য করতে পারছিলেন না। বিশেষ করে ডিজিটালাইজেশনের কাজে বারবার সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বারবার সমস্যার কথা জানালেও কোনো সুরাহা হয়নি, উল্টে কাজের জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এই মানসিক যন্ত্রণা থেকেই তিনি নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, নির্বাচন কমিশন কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই নিচুতলার কর্মীদের ওপর অমানবিক কাজের চাপ চাপিয়ে দিচ্ছে। দলের এক মুখপাত্রের কথায়, “ইতিমধ্যেই রাজ্যে একশোর বেশি বিএলও-র মৃত্যু হয়েছে বা তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।” অন্যদিকে, বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, রাজ্য প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবেই বিএলও-রা প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা পাচ্ছেন না। এই ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং বিএলও-দের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।