চকোলেট বা খেলনার লোভ দেখিয়ে অসহায় শিশুদের জালে তোলা এবং তারপর তাঁদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো—এমনই এক শিউরে ওঠা ঘটনার পর্দাফাঁস হয়েছে। ব্যবসার নাম করে আড়ালে শিশুদের ওপর পৈশাচিক অত্যাচার চালানোর অভিযোগে এক দম্পতিকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তদন্তকারীদের হাতে আসা কিছু ডিজিটাল প্রমাণ বা ভিডিও ক্লিপ এই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়, যা দেখে খোদ বিচারকও স্তম্ভিত হয়ে যান।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন নিখোঁজ শিশুদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। তদন্তের এক পর্যায়ে সন্দেহভাজন এই দম্পতির বাড়িতে হানা দিলে উদ্ধার হয় একাধিক মোবাইল ফোন এবং মেমোরি কার্ড। ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা যায়, সেখানে শিশুদের ওপর চালানো নৃশংস নির্যাতনের দৃশ্য রেকর্ড করে রাখা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্তরা এই ভিডিওগুলো ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক পর্নোগ্রাফি চক্র বা ডার্ক ওয়েবে অর্থ উপার্জনের পরিকল্পনা করেছিল।
আদালতে সরকার পক্ষের আইনজীবী জানান, অভিযুক্তরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে শিশুদের টার্গেট করত। গরিব পরিবারের শিশুদের ভালো খাবার বা খেলনার প্রলোভন দিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে আসা হতো। ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্টে স্পষ্ট দেখা গেছে যে, শিশুরা যন্ত্রণায় চিৎকার করলেও অভিযুক্তদের মনে কোনো দয়া ছিল না। আদালত এই ঘটনাটিকে “বিরল থেকে বিরলতম” আখ্যা দিয়ে মন্তব্য করেছে যে, সমাজের সুরক্ষার স্বার্থে এই ধরনের অপরাধীদের বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। এই রায় ঘোষণার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত সাজা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।