গ্ল্যামার দুনিয়ার ঝকঝকে পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকে অনেক অন্ধকার ও ভয়াবহ স্মৃতি। সম্প্রতি গ্লোবাল আইকন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া তাঁর জীবনের এমনই এক শিউরে ওঠা অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন, যা শুনে স্তম্ভিত অনুগামীরা। রাত ১১টার নির্জন রাস্তায় এক ক্যাব চালকের অতর্কিত আক্রমণের শিকার হতে হয়েছিল প্রিয়াঙ্কা ও তাঁর মা মধু চোপড়াকে। সেই রাতে মা ও মেয়ের লড়াইয়ের যে রূপ প্রিয়াঙ্কা দেখেছিলেন, তা আজও তাঁর স্মৃতিতে টাটকা।
ভয়াবহ সেই রাত: প্রিয়াঙ্কার স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছিল রাত ১১টা নাগাদ। তাঁরা একটি ক্যাবে করে ফিরছিলেন, সেই সময় আচমকাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চালক হঠাৎই প্রিয়াঙ্কার গলা চেপে ধরে আক্রমণ করে। ছোট্ট প্রিয়াঙ্কা সেই মুহূর্তে এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন যে তাঁর হিতাহিত জ্ঞান ছিল না। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন তাঁর মা মধু চোপড়া। নিজের সন্তানকে বাঁচাতে তিনি আক্ষরিক অর্থেই ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রিয়াঙ্কার কথায়, “মায়ের সেই রূপ আমি আগে কখনও দেখিনি। একজন মা নিজের সন্তানকে রক্ষা করার জন্য কতটা ভয়ংকর হতে পারেন, সেদিন বুঝেছিলাম।”
ঘটনার পরবর্তী প্রভাব: সেই রাতের আতঙ্ক প্রিয়াঙ্কার মনে এতটাই গভীর রেখাপাত করেছিল যে, পরবর্তী চার মাস তিনি মায়ের কোনো কথার অবাধ্য হওয়ার সাহস পাননি। হোটেলে ফেরার পর প্রিয়াঙ্কা দেখেছিলেন, সাহসের সঙ্গে লড়াই করলেও তাঁর মা ভয়ে ও উত্তেজনায় কাঁপছিলেন। অভিনেত্রীর মতে, মা হিসেবে নিজের সন্তানকে আগলে রাখার সহজাত প্রবৃত্তি থেকেই মধু চোপড়া সেদিন অতটা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন। প্রিয়াঙ্কা মনে করেন, সেই রাতে তিনি সঙ্গে ছিলেন বলেই তাঁর মা মরণপণ লড়াই করতে পেরেছিলেন। আজ বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পেলেও, মায়ের সেই লড়াই আজও প্রিয়াঙ্কার কাছে সবথেকে বড় অনুপ্রেরণা।