রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০২৬ সালের মার্চ মাসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বড়সড় আর্থিক স্বস্তির ইঙ্গিত মিলছে। একদিকে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ, অন্যদিকে নতুন অর্থবর্ষ শুরুর আগে বকেয়া মেটানোর তৎপরতা— সব মিলিয়ে কর্মীদের পকেটে মোটা অঙ্কের টাকা আসার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বড় খবর: সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ একটি ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে জমে থাকা বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে রাজ্য সরকারকে মিটিয়ে দিতে হবে। আন্দোলনকারী কর্মীদের দাবি অনুযায়ী, আদালতের নির্ধারিত ২৫ শতাংশ এবং কমিটির সুপারিশকৃত অংশ মিলিয়ে বকেয়া ডিএ-র পরিমাণ প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। যদিও রাজ্য সরকার আর্থিক সংকটের কথা বারবার তুলে ধরছে, তবুও শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছে যে এটি কর্মীদের আইনসিদ্ধ অধিকার, কোনো অনুদান নয়। ৬ মার্চের মধ্যে বকেয়ার প্রথম কিস্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের হোলি উপহার: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য মার্চের প্রথম সপ্তাহে ২ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা হতে পারে। এর ফলে তাঁদের বর্তমান ডিএ ৫৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬০ শতাংশে পৌঁছাবে। ৪ঠা মার্চ হোলির আগেই এই ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় কর্মীরা জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারী মাসের বকেয়া বা এরিয়ার (Arrears) সহ বর্ধিত বেতন হাতে পেতে পারেন। এছাড়া অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে কেন্দ্রীয় স্তরে যে প্রস্তুতি চলছে, তাতে আগামীতে বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। সব মিলিয়ে ৩১ মার্চের সময়সীমা সরকারি কর্মচারীদের জন্য এক বিশাল আর্থিক পাওনা নিশ্চিত করতে চলেছে।