পায়ে ঘনঘন ঝিঁ-ঝিঁ ধরে অবশ হয়ে যাচ্ছে? এই ৫টি সহজ উপায়ে নিমেষেই মুক্তি পান!

একটানা একভাবে বসে থাকলে বা শোয়ার ভুলের কারণে পায়ে ঝিঁ-ঝিঁ ধরার সমস্যায় আমরা কমবেশি সবাই ভুগি। একে ডাক্তারি ভাষায় বলা হয় ‘প্যারেস্থেসিয়া’ (Paresthesia)। মনে হয় যেন পায়ের ওপর দিয়ে অসংখ্য পিঁপড়ে হেঁটে যাচ্ছে অথবা পা ভারী হয়ে অবশ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কেন এমন হয় এবং এর থেকে মুক্তির উপায় কী?

ঝিঁ-ঝিঁ কেন ধরে?
আমাদের শরীরের স্নায়ুর ওপর দীর্ঘক্ষণ চাপ পড়লে রক্ত সঞ্চালন সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে মস্তিস্কে সঠিক সংকেত পৌঁছাতে পারে না এবং পা অবশ অনুভূত হয়। তবে রক্তাল্পতা বা ভিটামিন B12-এর অভাব থাকলেও এই সমস্যা বারবার দেখা দিতে পারে।

দ্রুত মুক্তি পেতে যা করবেন:

পায়ের আঙুল নাড়াচাড়া করুন: পা ঝিঁ-ঝিঁ ধরলে আতঙ্কিত না হয়ে পায়ের আঙুলগুলো ওপর-নিচ করার চেষ্টা করুন। এতে রক্ত সঞ্চালন আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।

মাথা এপাশ-ওপাশ করুন: অবাক লাগলেও সত্যি, ঘাড় বা মাথা ধীরে ধীরে ডানে-বামে ঘোরালে শরীরের ওপরের অংশের স্নায়ুর চাপ কমে, যা পায়ের অসাড়তা কাটাতেও সাহায্য করে।

পেশির স্ট্রেচিং: দাঁড়িয়ে হালকা স্ট্রেচিং করুন বা পায়ে একটু ম্যাসাজ করুন। এতে রক্ত চলাচল দ্রুত হয় এবং ঝিঁ-ঝিঁ ছেড়ে যায়।

পর্যাপ্ত জল ও পুষ্টি: শরীরে জলের অভাব বা পটাশিয়ামের ঘাটতি হলে পেশিতে টান ধরে। তাই নিয়মিত জল পান করুন এবং খাদ্যতালিকায় কলা বা লেবুর মতো খাবার রাখুন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি কোনো কারণ ছাড়াই বারবার পা অবশ হয়ে যায়, দীর্ঘক্ষণ ঝিঁ-ঝিঁ ভাব না কাটে বা হাঁটাচলায় সমস্যা হয়, তবে এটি স্নায়ুর কোনো গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি ‘পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি’-র সংকেত হতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা হলে অবহেলা করবেন না।

প্রয়োজনীয় টিপস: যারা দীর্ঘক্ষণ ডেস্কে বসে কাজ করেন, তারা প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর একবার উঠে দাঁড়ান বা অল্প হাঁটাচলা করুন। এতে স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ার ঝুঁকি কমবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy